স্থানীয় সংবাদ

জোয়ারের পানিতে ২ গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দি

# অভয়নগর উপজেলা #
# স্থায়ী সমাধানের দাবি #

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ নি¤œচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আতাই নদের পানি কয়েক ফুট বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী শান্তিপুর ও রামনগর গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। টেকসই বাঁধ সংস্কারের দাবি করেছেন গ্রামবাসী। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল।
জানা গেছে, উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে ভৈরব নদের ত্রিমোহনী থেকে বয়ে যাওয়া মজুদখালী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আতাই নদ। সেই আতাই নদের দুর্বল বাঁধের প্রায় ২ শত মিটার অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে শান্তিপুর ও রামনগর গ্রামের কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।
শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও আতাই নদে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেড়ে যায়। সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুর থেকে ঋষিপাড়া অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্বল বাঁধের প্রায় ২ শত মিটার দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে পাশাপাশি দুই গ্রামের শত শত পরিবার, ভেসে যায় মাছের ঘের, তলিয়ে যায় গ্রামীণ সড়কসহ ফসলি জমি।
একই গ্রামের বাসিন্দা ফুল বাবু বলেন, আতাই নদে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ থাকলেও সংস্কার করা হয় না। যে কারণে বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকতে থাকে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। এই দুর্বল বাঁধকে টেকসই বাঁধে পরিণত করতে হবে। তাহলেই জোয়ারের পানি ঢোকা বন্ধ হবে।
সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল কাশেম বলেন, আমার ইউনিয়নের শান্তিপুর ও রামনগর গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে বাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ২টি গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ওই বাঁধের দুর্বল অংশে প্রাথমিক সংস্কারের উদ্যোগ নিবে বলে জানিয়েছে। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমের পর ওই বাঁধের টেকসই সংস্কার করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button