সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী

# আড়ংঘাটায় রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে দুর্বৃত্তরা খুবলে খাচ্ছে #
স্টাফ রিপোর্টারঃ আড়ংঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সংঘবদ্ধ জমির দালাল নামে প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে নির্যাতিত এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ, সেলিম হোসেনসহ এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, “আমারা আড়ংঘাটা থাানাধীন ঘোনারদাড়া রাস্তার শলুয়া বাজারের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। অত্র এলাকার সংঘবদ্ধ জমির দালাল নামে প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে দিশেহারা হয়েছি। আমাদের বসতঘরের সামনে ও পিছনে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট আবেদন সাপেক্ষে কৃষি কাজ করি। যা আমাদের জীবিকা নির্বাহ করি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অত্র এলাকায় কিছু সংঘবদ্ধ জমির দালাল নামে প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ সহজ সরল মানুষকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে মুখোরোচক কথা বলে অত্র গ্রামে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমিসহ স্থায়ী বাসিন্দাদের জমি জবর-দখল করে বিক্রি করছে। আমরা সাধারণ এলাকাবাসী এ কাজে বাঁধা দিলে সংঘবদ্ধ জমির দালাল নামে প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ তারা আমাদের মারধর, গুম, খুনের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ী ভাংচুর, লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, জমির দালাল নামে প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের দলের অন্যতম সদস্য বনমালী মন্ডল। যিনি পেশায় একজন আমীন। তিনি তার পেশাকে পুঁজি করে প্রতারকর চক্রের প্রতারণার কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ইতিপূর্বে অত্র সংঘবদ্ধ জমির দালালের নামে প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ উক্ত স্থানে বসবাসকারী প্রতি জমির মালিকদের নিকট পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। যা না দেওয়ার ফল স্বরূপ দুর্বৃত্তরা প্রায় হামলা চালিয়ে আমাদের ঘরবাড়ী ভাংচুর, কৃষি কাজের ফসল নষ্ট ও বিভিন্ন ফলের গাছ কর্তন করে। এমতাবস্থায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন যাপন করছি। অত্র গ্রামের অনেক জমির মালিক অত্যাচারে ও জীবনের ঝুঁকির ভয়ে তাদের নিজ জমিতে বসবাস করতে পারছেন না। উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা এলাকার জমির মালিকদের নানাভাবে নির্যাতন করছে। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাইনি। উল্লেখ্য উক্ত সংঘবদ্ধ জমির দালাল নামে প্রতারক চক্র সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন। যেমন বিগত আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা আওয়ামীলীগের অত্র শলুয়া বাজারে ও আশপাশ এলাকায় চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করত। এদের বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি। সংঘবদ্ধ জমির দালালের নামে প্রতারক চক্র ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অত্র আড়ংঘাটা থানা ওসির নিকটে অভিযোগ জানালে তারা অপরগতা প্রকাশ করে বলে, জমি-জমা এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ নিতে পারবো না। বর্তমানে সন্ত্রাসীচক্র সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কেটে অন্য অন্যত্র মাটি বিক্রি করছে। যা দেখা এবং বাঁধা দেওয়ার কেউ নেই।” বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ বলেন, চক্রটি বিগত দিনে আ’লীগ করেছে। এখন ভোল পাল্টিয়ে বিএনপির পরিচয় দিচ্ছে। মূলত এরা সুবিধাবাদী। এরা দলের কোন উপকার করে না বরং বদনাম করে। এ চক্রের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে অনেক নির্যাতনে শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে জমির আমিন বনমালি মন্ডলকে একাধিকবার মোবাইল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে আড়ংঘাটা থানার ওসি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পানি উন্নয়নবোর্ডের জমি কতটুকু তারা দাঁড়িয়ে থেকে বুঝে নিবে। পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে। তবে জমিজমার মালিকানা বুঝে দেয়া পুলিশের কাজ নয় বলে তিনি জানান।



