খেলাধুলা

ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিকে শিরোপা দক্ষিণ আফ্রিকার

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস

স্পোর্টস ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পরও ব্যাট হাতে মাঠে নামলে এবি ডি ভিলিয়ার্স যেন বারবার প্রমাণ করে দেন, কেন তাঁকে বলা হয় ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’। বার্মিংহামের এজবাস্টনে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের (ডব্লুসিএল) ফাইনালেও তাঁর ব্যাট জ্বলে উঠল আগুনে। পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের বিপক্ষে ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নসকে এনে দিলেন শিরোপা, আর নিজে তুলে নিলেন সব ব্যক্তিগত স্বীকৃতি।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত শিরোপা লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্যাটিং করতে নেমে ডি ভিলিয়ার্স খেলেছেন ৬০ বলে ১২০ রানের অপরাজিত ইনিংস। মাত্র ৪৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা এই ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৭টি ছক্কার ঝড়। দলের রান যখন ১৯৫, তখন ফাইনালে তাঁরা হেরেছেন মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে, আর সেটি ওপেনার হাশিম আমলার।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস স্কোরবোর্ডে তোলে ৫ উইকেটে ১৯৫ রান। ওপেনার শারজিল খান ৪৪ বলে ৭৬ রান করে ইনিংসের প্রধান ভিত্তি গড়েন। সঙ্গ দেন উমর আমিন (১৯ বলে ৩৬॥) ও আসিফ আলী (১৫ বলে ২৮)। তবে বাকি ব্যাটারদের কেউই বড় কিছু করতে পারেননি।
জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটি পাওয়ার প্লেতে সংগ্রহ করে ৭২ রান, যেখানে আমলার অবদান ছিল ১৪ বলে ১৮। এরপর জেপি ডুমিনির সঙ্গে ডি ভিলিয়ার্সের অবিচ্ছিন্ন ১২৫ রানের জুটিতেই ম্যাচ শেষ করে আসে প্রোটিয়ারা। দুমিনি অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ৫০ রানে। ম্যাচ শেষ হয় ১৯ বল হাতে রেখেই।
৪১ বছর বয়সেও এমন ধারাবাহিক আগ্রাসী ব্যাটিং উপহার দিয়ে ডি ভিলিয়ার্স যেন ফিরিয়ে আনলেন তাঁর ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি অধ্যায়। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি করেছেন সর্বোচ্চ ৪৩১ রান, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি। তাঁর ব্যাটিং গড় ১৪৩, স্ট্রাইক রেট ২২০-টুর্নামেন্টের অন্য কোনো ব্যাটসম্যান এত রান কিংবা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।
শুধু ব্যাটিং নয়, পুরস্কারও উঠেছে তাঁর দখলে। ফাইনাল সেরা, মাস্টার ব্লাস্টার অব দ্য ম্যাচ, মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার ও গেম চেঞ্জার-এই চারটি পুরস্কারই জিতেছেন তিনি। ফাইনালে একমাত্র অন্য ব্যক্তি পুরস্কার পান পাকিস্তানের শারজিল খান, তাঁকে দেওয়া হয় ‘ফ্যান ফেভারিট লিজেন্ড’ স্বীকৃতি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বহু রেকর্ড ও প্রশংসা অর্জন করলেও কোনো বৈশি^ক শিরোপা ছিল না ডি ভিলিয়ার্সের। সাবেকদের এই টুর্নামেন্টে অবশেষে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে একটি শিরোপা জয়ের আনন্দ উপভোগ করলেন তিনিও। শিরোপা জয়ের পর তাঁর হাসিমাখা মুখে ট্রফি হাতে নাচ, সতীর্থদের উল্লাস-সব মিলিয়ে যেন এক আবেগঘন মুহূর্তের সমাপ্তি।
টুর্নামেন্টের শিরোপাজয়ী দল দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে ২ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার, আর রানার্সআপ পাকিস্তান পেয়েছে ১ লাখ মার্কিন ডলার।
এবারের আসরে মোট ছয়টি দল অংশ নিয়েছিল। সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। তবে ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক বৈরিতির কারণে মাঠে না নেমেই সেমি-ফাইনালে পাকিস্তান ওয়াকওভার পায়। অন্যদিকে ডি ভিলিয়ার্সদের দল সেমিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় ১ রানে। তবে সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে এবারের ডব্লুসিএল ছিল এবি ডি ভিলিয়ার্স নামক ব্যাটিং শিল্পীর একক নাট্যমঞ্চ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদায় নেওয়ার পর তিনি আবারও দেখালেন-সময় চলে গেলেও প্রতিভা কখনো পুরনো হয় না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button