দিঘলিয়ায় নির্মাণাধীন রাস্তার কাজে ধীর গতি : জনদূর্ভোগ সৃষ্টি

# ঠিকাদার চুপচাপ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে নিরব
সৈয়দ জাহিদুজ্জামান দিঘলিয়া খুলনা থেকে ঃ দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘলিয়া গ্রামের নির্মাণাধীন পাকা রাস্তার কাজ মাসের পর মাস ফেলে রেখে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। আর এ ঘটনার প্রমাণ মিলেছে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা মোড় থেকে জনৈক প্রকৌশলীর বাড়ি পর্যন্ত ১ কিমি রাস্তাটি গত অর্থ বছরে দিঘলিয়া এলজিইডির আওতায় খুলনা বিভাগীয় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (কউজওউচ) আওতায় প্রক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫২ টাকা, চুক্তি মূল্য ১ কোটি ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৯.৪ টাকায় রাস্তাটির টেন্ডার পায় গত অর্থ বছরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমানত এন্টারপ্রাইজ। উক্ত ঠিকাদার অধিক মুনাফায় অপেশাদারী ঠিকাদারী ও প্রভাবশালী মহলের অপতৎপরতায় সাব ঠিকাদার সজিবের নিকট কাজ বিক্রি করে দেয়। দিঘলিয়া স্কুল-ব্রহ্মগাতী রাস্তাটির তেঁতুলতলা থেকে জনৈক প্রকৌশলীর বাড়ি পর্যন্ত সজিব বেড খুঁড়ে তেঁতুলতলা মোড়ে তেঁতুল গাছের উত্তরপাশে জমি মালিকানা দাবীতে মামলা চলমান থাকার অজুহাতে কাজ বন্ধ করে দেয়। যা দিঘলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুসহ এম এ মজিদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ও সরকারি ডিগ্রী কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ উক্ত রাস্তায় চলাচলরত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। পরবর্তীতে রাস্তার সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হলেও সাব ঠিকাদারের রাস্তার কাজে গড়িমসি গণমানুষের ক্ষোভের উদ্রেক করে। মিডিয়া ও এলাকাবাসীর সরব প্রতিবাদ ভূমিকায় বেডের ৬ ইঞ্চি বালি ও ৬ ইঞ্চি খোয়া, মাটি ও বালু ভরাট যেনোতেনোভাবে ফেললেও বাকি ৬ ইঞ্চি খোয়া ফেলা ও রোলার করার কাজের কোনো খবর নেই। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নতুন অর্থ বছর। কিন্তু সাব ঠিকাদার কাজ না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এক সূত্রে জানা গেছে সে অনেক দূরে কোথাও অন্য একটা কাজে ব্যস্ত আছে। সেখানে থেকে সে কাজ করছে। এখানে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘদিন রাস্তাটির নির্মাণ কাজ ফেলে রাখার কারণে বৃষ্টির পানি জমে কাঁদা সৃষ্টি হওয়ায় উল্লেখিত সব শ্রেণির মানুষের যাতায়াত ও মালামাল পরিবহণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরমভাবে।
উক্ত নির্মাণাধীন পাকা রাস্তার পাশের মুদী দোকানদার মোঃ মকবুল হোসেন এ রাস্তাটি নির্মাণকাজের টেন্ডার হওয়ার পর থেকে প্রায় বছরখানেক সাব ঠিকাদার নানা অজুহাতে কাজ না করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
দিঘলিয়া এমএ মজিদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুব এজাজ এ প্রতিবেদককে জানান, অতি সম্প্রতি ঠিকাদার এসে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার ফলে বেঁকে যাওয়া হেজিং এর ইট সোজা করে চলে গেছে আর কোনো খোঁজ নেই। প্রবল বর্ষণে ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগের আর শেষ নেই। আমরা দ্রুত কাজ শেষ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের শাস্তি দাবী করছি। উক্ত রাস্তার পাশের দোকান ব্যবসায়ী ফকরুল আলম বকুল, হানিফ শেখ ও শামীম হালাদার এ প্রতিবেদককে জানান, ঠিকাদারের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার একটা শেষ থাকে। এ ঠিকাদার তার সবকিছুর সীমা অতিক্রম করেছে। বর্ষার পানিতে পাশের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী চলতে গিয়ে বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পরনের পোশাক ভিজিয়েছে অনেকে। কিন্তু এ জনদুর্ভোগ বোঝার মত অবস্থা স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টমহলের কারো নেই। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ দেখতে চাই। পাশাপাশি দিঘলিয়া থেকে দিঘলিয়ার সকল উন্নয়ন কাজ থেকে অপেশাদারী ঠিকাদারীর আধিক্যের অবসান চাই। পাশাপাশি যে সকল ঠিকাদার কাজ না করে অপেশাদার সাব ঠিকাদারের নিকট কাজ বিক্রি করে জনদুর্ভোগ ও নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির জন্ম দেয় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানাই।



