স্থানীয় সংবাদ

সড়কের কাজ দ্রুত শেষ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নিসচার

# দীর্ঘ এক যুগেও সংস্কার হয়নি শিপইয়ার্ড সড়কের
চার কিলোমিটার পথ : এ যেন মরণফাঁদ
# প্রতিদিন হাজারো মানুষের চরম ঝুঁকি

এম এ আজিম : খুলনার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু পর্যন্ত। এ সড়কটি প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত, উঁচু-নিচু ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছে। সড়কটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স সংস্কার কাজ করছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজটি ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সড়কটির কাজ শেষ না করায় গত ৭ আগস্ট মাহাবুব ব্রাদার্সের সঙ্গে কাজের চুক্তি বাতিল করেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। এতে মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক সংস্কার, লবণচরা সেতু ও মতিয়াখালী স্লুইচগেটের নির্মাণ কাজ। যা খুলনাবাসীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে রাখা হচ্ছে। অবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরু না হলে বৃহৎ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর খুলনার মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ।

রোববার (১৭ আগস্ট) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না এক বিবৃতিতে জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে শিপইয়ার্ড সড়কটি। এক সময়ের ব্যস্ততম এই সড়কে এখন ইজিবাইক চালকরাও চলতে চান না। বৃষ্টি ও জোয়ার এলে পুরো সড়ক পানিতে ডুবে যায়। তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। যাতায়াতকারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়। এই সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ করে খুলনা মহানগরীর বান্দাবাজার, চানমারী, শিপইয়ার্ড এলাকা, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, আধুনিক রাইস মিল ও চিংড়ি প্রসেসিং জোনের কয়েক হাজার শ্রমিক। রয়েছে বাসস্থান ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত। অথচ প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ সড়কের গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রকল্পের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে করা হয়েছে লুটপাট। এই সড়ক দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু না হলে খুলনাবাসীকে সাথে নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button