স্থানীয় সংবাদ

নোটিশের দু’ মাসেও উচ্ছেদ হয়নি থুকড়া বাজারের অবৈধ স্থাপনা ঃ সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

স্টাফ রিপোর্টারঃ উচ্ছেদ নোটিশের দু’ মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া বাজারে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। তিনজন দখলদার দীর্ঘ দিন ধরে তারা সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ইমারত নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়ে ভোগ দখল করছে। তবে শিগগিরই অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে বলে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান। ডুুমরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পাশেই এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী গত ১৯ জুন ওই অবৈধ স্থাপনার মালিকদের উচ্ছেদ নোটিশ দেন। কিন্তু দখলদারচক্রটি নানা অজুহাতে তাদের দখলদারিত্ব বজায়ে রাখতে চায়। নোটিশের এত দিন পরও কেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলো না-এমন প্রশ্নের জবাবে থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, “আমি অল্প দিন হয়েছে এখানে বদলী হয়ে এসেছি। নানা কাজের চাপের কারণে এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার সুযোগ পাইনি। তবে ইউএনও স্যার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছেন। সেহেতু আগামী সপ্তাহ নাগাদ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি জানান। ইউনিয়ন উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা বোরহান উদ্দীন বলেন, নোটিশকৃত জমি সরকারি জমি। এখানে সান্টুসহ কয়েকজন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়ে খাচ্ছে। এটা শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি জানান।” থুকড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আঃ হামিদ বলেন, “নোটিশপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো আমার জানা মতে অবৈধ ভাবে সরকারি জায়গার ওপর করা হয়েছে। ওই জায়গা সরকারি জমি। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকার তার জায়গা বুঝে নিক-এটাই তিনি চান বলে জানান”। অবৈধ দখলদার সান্টু বিশ্বাস বলেন, অনেক আগেই ২৫নং খতিয়ানের ১৫নং দাগের এই জমি ক্রয় করে তার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এ যাবৎকাল কেউ বাঁধা দেয়নি। ভূমি অফিসের কাজ কর্ম করতে পারে এমন একজনের নিকট সম্প্রতি ঘর ভাড়া দেয়ার পর ঝামেলা শুরু হয়েছে। তারসহ পরপর তিনটি দোকান উচ্ছেদের জন্য উপজেলা থেকে নোটিশ দিয়েছে। তারা জনতা সমবায় সমিতির ১২ শরীকের কাজ থেকে জমি ক্রয় করেন বলে জানান।” তবে সোমবার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিন গেলে ভূমি সহকারি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন সবার সামনে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল আমিনকে মোবাইলে রিং করেন। এ সময় ইউএনও ভূমি কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে বলেন,“আপনি ওই অবৈধ স্থাপনা শিগগিরই উচ্ছেদ করবেন। যদি না পারেন তাহলে স্থাপনা তালা মেরে রাখেন। আমি এসে উচ্ছেদ করে দিব।” এই সরকারি জমিতে স্থাপনা ভাড়া নিয়ে ডিজিটাল ভূমি সেবা কেন্দ্র করা হয়েচে। ওই ভাড়াটিয়া বলেন, “আমি ঘর ভাড়া নিয়ে এ সেবা কেন্দ্র খুলেছি। জমির মালিকানার ব্যাপারে কিছু জানি না।”

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button