সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি

শিল্প খাতে গ্যাস সংকটে
গ্যাস সংকটের কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের শিল্প খাত। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ তো হয়ই না, যেটুক হয় তাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসের চাপ থাকে না। যদিও দেশীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে শিল্প খাত খুবই গুরুত্বপূণ। বলা যায়, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো পোশাক ও বস্ত্রশিল্প। এই খাতে গ্যাস সংকট যে ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে সে কথা নিশ্চিতই বলা যায়। গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্প্রতি জ্বালানি সচিবের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে এসব প্রস্তাবের গুরুত্ব অপরিসীম। পোশাকশিল্পে গ্যাসের নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান একটি যৌক্তিক দাবি। নতুন কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও এটি অপরিহার্য। গ্যাস সংযোগের অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা উৎপাদন শুরু করতে বিলম্ব ঘটায়, যা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। তাই মন্ত্রণালয় কর্তৃক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করাও প্রয়োজন। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দিলে তারা দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারবে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির গতিকে ত্বরান্বিত করবে। বিজিএমইএর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো, ধামরাই ও মানিকগঞ্জের মতো গ্যাস পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা। অনেক কারখানা পর্যাপ্ত চাপ না পাওয়ায় তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না, যা রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিবের আশ্বাস নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ শিল্প তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারবে না। ভুলে গেলে চলবে না, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চাহিদামাফিক উৎপাদিত পণ্য সময়মতো সরবরাহ করতে না পারলে কিংবা পণ্যের গুণগত মান ঠিক না থাকলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দেওয়া শুধু নয়, বাতিলও করতে পারেন, যা অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক হবে না। সরকার পোশাকশিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসাবে বিবেচনা করে এবং এ খাতের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক। তাই বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলো দ্রুত কার্যকর করা হলে তা শুধু পোশাকশিল্প নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে। সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।