সম্পাদকীয়

উসৎগুলো বন্ধ করতে হবে

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার

সারা দেশে গড়ে উঠেছে মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি মাদক প্রবেশ করে মায়ানমার থেকে স্থল ও জল উভয় সীমান্ত দিয়ে। জানা যায়, প্রায় ৯ মাস ধরে দেশ থেকে ওষুধ, খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী, কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান হয়ে মায়ানমারে যাচ্ছে। বিনিময়ে মায়ানমার থেকে আসছে ইয়াবা, আইসসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, এসব পণ্যের বিনিময় হয় সাগরের মায়ানমার অংশে। বিশেষ করে মাছ ধরার নৌযানে পণ্য নেওয়া হয় মায়ানমারের আরাকান আর্মির সদস্যদের কাছে। মায়ানমারে পণ্য পাচারকালে কোস্ট গার্ড গত এক মাসে কমপক্ষে চারটি চালান আটক করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মায়ানমার থেকে সাগরপথে নৌযানে ইয়াবার চালান এনে নাফ নদী পার করে তা টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। এরপর এসব চালান সীমান্ত থেকে ১৭টি পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোস্ট গার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পণ্যের বিনিময়ে ইয়াবা আনার চক্রের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে ইয়াবা বহনকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই কারবার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন স্থানে হত্যাকা-ও ঘটানো হচ্ছে। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রায়ই ঘটছে সংঘর্ষ। মাদকের প্রতি জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই কম দেখা যায়। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয় ও ছোট-বড় প্রায় সব অপরাধের পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটকের কাজ করছে মাদকাসক্তি। মাদকাসক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই কিশোর-তরুণ। মাদক ব্যবসার গডফাদাররা খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিতে এই কিশোর-তরুণদের ব্যবহার করছে। আমরা আশা করি, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ছোট-বড় সব কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকসংক্রান্ত মামলার বিচারকাজ দ্রুততর করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button