আন্তর্জাতিক

টানা বৃষ্টি-বন্যায় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আরও ১৩ মৃত্যু

প্রবাহ ডেস্ক : পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার বেশ কয়েকটি জেলায় সপ্তাহান্তের ভারি বর্ষণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু ও ৫২ জনের আহত হওয়ার খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ১৫ অগাস্টের পর থেকে প্রদেশটিতে বৃষ্টি-বন্যায় শতাধিক নারী-শিশুসহ ৪০৯ জনের মৃত্যু ও ২৫১ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ)। ৫৭৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৫৪টি। ডন জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ার তা-বে শনিবার রাতে ডেরা ইসমাইল খানে ৮ জনের মৃত্যু ও ৪৮ জন আহত হয়েছে। লোয়ার দীরে একটি বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় তিন শিশুর প্রাণ গেছে। মারদান ও আপার কোহিস্তানে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাতাসের গতি কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল, যার ধাক্কায় গাছ, খুঁটি উপড়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও দেয়াল বা ছাদ ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় জেলা পুরোপুরি অন্ধকারেও নিমজ্জিত হয়। ডেরা ইসমাইল খানে ৮ জনের মধ্যে ডেরা তহসিলেই মারা গেছে ৫ জন, বাকি তিনজন পাহারপুর তহসিলে। মারিয়ালিতে জমিয়াতুল মদিনার একটি দেয়াল ধসের ঘটনায় একটি সৌর প্যানেলের ক্ষতি হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আহতদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ জরুরি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। জেলার কমিশনার জাফরুল ইসলাম খাত্তাক বাসিন্দাদেরকে ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। টানা বর্ষণে প্রদেশজুড়ে একাধিক নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে পাঞ্জাব। এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ২১ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত রোববার পাকিস্তানের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ (এফএফডি) পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চেনাব ও সিন্ধু নদের অনেক জায়গায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে। গান্দা সিং ওয়ালায় সুতলেজ নদীর পানিও আগামী কয়েকদিন বিপদসীমার ওপরে থাকতে পারে, তবে সেটা নির্ভর করছে ভারত কী পরিমাণ পানি ছাড়ে তার ওপর, বলেছে তারা। ডেরা গাজী খান ও উত্তরপূর্ব বেলুচিস্তানে হঠাৎ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। দুই দিনের মধ্যে লাহোর, গুজরানওয়ালা ও রাওয়ালপিন্ডিতেও বন্যা দেখা দিতে পারে। পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) হিসাব বলছে, তুমুল বর্ষণ ও বন্যায় ২৬ জুন থেকে দেশজুড়ে ১১৭ নারী ও ২০০ শিশুসহ ৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ১ হাজার ১৮ জন। ৬ হাজার ৬৩০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ হাজার ৫৪৮টি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। এবারের দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়ার; ২৬ জুন থেকে প্রদেশটিতে মোট ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর বাইরে পাঞ্জাবে ১৬৫, সিন্ধুতে ৫১, বেলুচিস্তানে ২৪, গিলগিত-বালতিস্তানে ৪৫, আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে ২৩ ও ইসলামাবাদে ৮ মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে ৫১২টি অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে বলেও জানিয়েছে এনডিএমএ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন অংশীদারদের সহযোগিতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কর্তৃপক্ষ তাঁবু, কম্বল, পরিচ্ছনতা কিট, রেশন ব্যাগ, খাবারের প্যাকেট ও পানিসহ ৮৩ হাজার ৬৪৯টিরও বেশি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তায় সৌরপ্যানেল, পানি নিষ্কাশন পাম্প ও জেনারেটরও সরবরাহ করা হয়েছে, বলেছে এনডিএমএ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button