সম্পাদকীয়

নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হোক

নাগরিক অধিকার সুরক্ষার মূল দায়িত্ব বর্তায় রাষ্ট্রের ওপর। শ্রেণিবৈষম্যের কারণে কিংবা শাসকের পক্ষপাতিত্বের জন্য ব্যক্তির অধিকার খর্ব হতে পারে। শোষণের নানামাত্রিক তৎপরতায় মানুষ তার অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার অবলম্বন হারাতে পারে। এ জন্য রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য ও দায়িত্ব হলো নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, সমতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও উন্নত হয়, যখন তার প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোতে আমরা প্রায়শই দেখি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পদে পদে বিঘিœত হচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া খুবই সামান্য। তারা কে ক্ষমতায় আছেন বা আসবেন, তা নিয়ে অধিকাংশ সময় তেমন মাথা ঘামান না। তাদের মূল চিন্তা হলো জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা ও জানমালের নিরাপত্তা বিধান। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও চলাফেরার অধিকার চান তারা। তারা চান লিবার্টি বা ব্যক্তি স্বাধীনতার বাস্তবায়ন। কারণ, ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করা না গেলে কোনো নাগরিকই নিজেকে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে ভাবতে পারেন না। দীর্ঘদিন পর আমাদের দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে। ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন ঘটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের। ছাত্র জনতার মতামতের প্রতিফলনের মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন এক অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, সমগ্র বাংলাদেশ একটা পরিবারের মতো ‘যেখানে সরকারের দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা দেওয়া।’ আমরা চাই এই সরকার যেন প্রতিটি মানুষের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের যেন সব বিষয়ে মত ও দ্বিমত প্রকাশের অধিকার থাকে। এদেশের শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে যেন সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয় এদেশের শিক্ষাব্যবস্থার যেন সঠিক সংস্কার হয়। আমরা চাই এদেশে যেন এমন একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৈরি হয় যাদের উপর এদেশের মানুষ পূর্ণভাবে আস্থা রাখতে পারবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে, অতি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, তাদের সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। বিগত সময়ে হওয়া প্রতিটি অন্যায়ের যেন সঠিক বিচার হয় এবং অন্যায়ভাবে যেন কাউকে শাস্তি দেওয়া না হয়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে ঔষধ থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছুরই যেন সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button