রাস্তায় মরণ ফাঁদ: রাজারহাটের সড়কজুড়ে অবৈধ যান চলাচল ও প্রশাসনের নীরবতা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাস্তাঘাট যেন এখন মৃত্যু ফাঁদে রূপ নিয়েছে। শহরজুড়ে চলছে অবৈধ ডাম্পার ট্রাক, ১৮ চাকার ভারী ট্রাক, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলি ও অন্যান্য যানবাহনের দাপট। এসব যানবাহনের মাধ্যমে বালু, ইট ও মাটি পরিবহন চললেও নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ, নেই কোনো নিয়মকানুন। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন ভয়াবহ ও নিয়মবহির্ভূত চলাচল নাগরিকদের জীবন ও চলাচল- উভয়ের ওপর ফেলছে সরাসরি প্রভাব। অভিযোগ রয়েছে, এসব গাড়ির অধিকাংশ চালকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, যানবাহনগুলোর নেই বৈধ কাগজপত্র। তারা অতিরিক্ত ওজন বহন করে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে রাজারহাটের শহর ও গ্রামীণ সড়কে, যার ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত কাদা ও পানিতে ভরে হয়ে উঠছে আরও ভয়ঙ্কর, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। শুধু সড়কই নয়, সাধারণ মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। শুধু রাস্তার ক্ষতি নয়-অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে উত্তোলিত বালু ও মাটি শহরের পুকুর-বিল ভরাট এবং ইটভাটা ও নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশগতভাবে আরও বিপর্যয় ডেকে আনছে। এসব কাজের পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গায়ের জোরে শহরের ভেতর দিয়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে-যার বিরুদ্ধে বারবার বলার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও বৈধ পরিবহন চালকরা। প্রতিনিয়ত যানজট, ধুলাবালি, শব্দদূষণ, এবং দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে সবাইকে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-জননিরাপত্তার এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরবতা। রাজারহাট থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুল আলম অবশ্য আশ^াস দিয়েছেন বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো-কবে দেখা হবে? আর কত প্রাণ গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আমরা মনে করি, এ সমস্যা কোনো একক ব্যক্তির নয়-এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে কঠোর মনিটরিং ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, যে রাস্তাগুলো উন্নয়ন-প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে, তা জনগণের উপকারের পরিবর্তে জনদুর্ভোগ ও মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হবে-যার দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।