এক সপ্তায়ও মামলা হয়নি : স্বজনদের ক্ষোভ

# খালিশপুরে আলোচিত যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা #
স্টাফ রিপোর্টারঃ নগরীর খালিশপুরে আলোচিত সাবেক যুবদল নেতা মাসুদকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় গত এক সপ্তাহে মামলা হয়নি। এতে করে মাসুদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মামলা রেকর্ড না করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একটি সূত্র জানায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, খালিশপুর নিউ মার্কেট কমিটির ক্ষমতা দখল, পিপলস গোল চত্বরে বিএনপির সমাবেশে দু’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী ফ্যাসিস্ট নেতাদের মারধরসহ আরো কয়েকটি কারণে যুবদলের মাঠের নেতা মাসুদকে হত্যার পরিকল্পনা করে চক্রটি। তারা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের সহায়তায় এ কার্যক্রমটি সম্পন্ন করতে চায়। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে এখন মামলা থেকে বাঁচতে আক্রমণকারীরা নানাভাবে তদ্বিরে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ মামলা রেকর্ড করা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একপক্ষ মামলা রেকর্ডের পক্ষে কাজ করছে আবার অপর পক্ষ মামলা ঠেকাতে চেষ্টা করছে। ভিকটিমের ভাই জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পরের দিনই লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ নানা অজুহাতে অভিযোগ রেকর্ড করছে না। পুলিশ গুটি বাবুকে হুকুমের আসামী করতে চায়। অথচ ভিকটিম বলেছে, গুটি বাবু ঘটনাস্থলে থেকে এ হামলা চালিয়েছে। তারপরও কিভাবে পুলিশ তার নাম দেয়া নিয়ে গড়িমশি করতে পারে তা ভাবতেই কস্ট লাগে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। বিএনপি নেতা স্বপন জানান, একজন যুবদল নেতাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। অল্পের জন্য ব্যর্থ হলেও ভিকটিম মাসুদ সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। অথচ ভিডিওসহ সকল প্রমাণ পুলিশকে দিলেও তারা অভিযোগ রেকর্ড করছে না। ধরছে না দুর্বৃত্তদের। তবে একটি সূত্র জানায়, ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিউ মার্কেট বাজারে মহড়া দেয়া যুবক সাবু আহত যুবদল নেতা মাসুদের লোক। এছাড়া বাজার কমিটির নেতা উজ্জলের লোক হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী নজরুল-মন্ডল। বাজারের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে নজরুল-মন্ডল বাহিনীকে ব্যবহার করে মাসুদকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এই নজরুলের সাথে ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একটি অংশের ভাল যোগাযোগ রয়েছে। তারা ওয়ার্ডে একক আধিপত্য ধরে রাখতে বিএনপির অপর গ্রুপের যুব নেতা মাসুদকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে এ পরিকল্পনা হাতে নেয় বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এদিকে ১৪ সেপ্টেম্বর ভিকটিম মাসুদ তার ফেইজবুক পেইজে লিখিছেন,“আমাকে পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা করে গুটি বাবু (থানা যুবদলের সভাপতি প্রার্থী), আরিফ, নজরুল (হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী), মন্ডল, মাছ আলা উজ্জল, সজিব, কানা বেল্লাল, কাজল, বাগান বাড়ির উজ্জল, বিহারী সনু, ফারুখ, জয়, বিজয়। এই পরিকল্পিত হত্যাকারীদের বিচারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।” খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এড. শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় শিকার মাসুদ বিএনপির মাঠের পরীক্ষিত সৈনিক। দুঃসময়ে মাসুদ দলকে টিকিয়ে রাখতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। তার ওপর হামলা হয়েছে আর সেই ব্যাপারে মামলা করা নিয়ে দল বাধাগ্রস্ত করবে-এটা মেনে নেয়া যায় না। যারা তাদের ভাল দেখতে পারে না তারা এই বদনাম ছড়াচ্ছে বলে এই নেতা দাবি করেন। খালিশপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী জানান, “ আমি সদ্য যোগদান করেছি। আগে কি হয়েছে তা নিয়ে কথা না বলে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। ওনাদের (ভিকটিম পরিবারের) যেন নিজস্ব কি সমস্যা হয়েছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তারা কোন লিখিত অভিযোগ আমার কাছে দেয়নি। উল্লেখ্য, দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুলনার খালিশপুর ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহবায়ক মাসুদ হোসেন (৫০) গুরুতর জখম হয়েছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা খালিশপুর নিউ মার্কেট রোডে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা মাসুদ এখন শংকামুক্ত বলে পারিবারিক সূত্রে প্রকাশ।



