স্থানীয় সংবাদ

খুমেক হাসপাতালে ২০৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী থাকলেও ফ্রি সার্ভিসসহ কাজ করে দ্বিগুণ

শেখ ফেরদৌস রহমান: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট তিনটি লটে ৯৫ জন, ১০৩ জন ও ৪ জন করে মোট ২০৬ জন বিভিন্ন্ ক্যটাগরী আয়া, ওয়ার্ডবয়, নিরাপত্তাকর্মি, পরিচছন্নতাকর্মি সহ আউটসোর্সিং কর্মচারী আছেন যারা চুক্তিভিক্তি কাজ করে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ফ্রি সার্ভিসে আছে আর দুইশ জনের বেশি কর্মচারী। অধিকাংশ সময়ে ঠিকাদার ও তার সহযোগীরা চাকুরী দেয়ার কথা বলে তারা অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করাচ্ছে। এমনকি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেতন দিবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এভাবে কাউকে তিন মাসের বেতন আবার কাউকে ৬ মাসের বেতন দেয়া হচ্ছে। তবে কোন না কোন মাধ্যমে ঠিকাদার অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। গেল জুন মাস থেকে জনবল সরবরাহ মেয়াদ শেষ হয় ঠিকাদর প্রতিষ্ঠানের। এর আগে হাসপাতালটির ৫২ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর নাম কেটে অন্যদের দেয়া হয়। যা নিয়ে বেতন বঞ্চিত অভিজ্ঞ এসব কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা যায়। আর ফ্রি হিসেবে কাজ করা এসব কর্মচারীদের কোন বেতন নির্ধারণ না থাকায় এসব কর্মচারীরা বিভিন্ন ফাঁদ পেতে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ্য রোগীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। রোগীর ভর্তি সময় থেকে শুরু হয় তাদের টাকার দাবি। এরপর বিভিন্ন ধাপে এমনকি অসুস্থ্য রোগীর ক্যানোলা পরিয়ে স্যালাইন দিতে গিয়ে গুণতে টাকা। এছাড়া হাসপাতালটির ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও নেয়া হচ্ছেনা এসব কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশন এর গণশুনানিতে বিস্তর এসব অভিযোগ থাকা কারণে সতর্ক করা হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এরপর যেন হযবরল অবস্থা। জানাযায় গেল বুধবার হাসপাতালটির ২য় তলায় চিকিৎসাধীন অসুস্থ্য রোগীকে নিয়ে ট্রলিতে করে একটি ইসিজি করতে নিয়ে যায় ফ্রি একজন নারী। এরপর রোগীর স্বজণকে বলে টাকা দিতে। রোগীর স্বজন তাকে ৫০ টাকা দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন ।বলেন, আরও ১শ টাকা দিতে হবে। তবে রোগীর স্বজন বলেন আমার কাছে আর টাকা নেই। এরপর সেই নারী বলেন তোর রোগীর জানাজা নামাজ পড়ার ব্যবস্থ্যা করছি। আর কোনসেবা যাতে না পাইস সেই ব্যবস্থা করছি। বলে সেই নারী চিৎকার করে। এ সময়ে প্রতিবেদক নিজেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন। কাছে যেয়ে চিৎকার করার কারণ জানতে চাইলে রোগীর স্বজন বলেন, উপরোক্ত ঘটনাটি। আর সেই নারীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আউটসোর্সিং হিসেবে একসময়ে এই হাসপাতালে তালিকাভুক্ত ছিলাম। আমার কাছ থেকে প্রয়াত ওয়ার্ড মাস্টার আতাউর সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে এই চাকুরী দিয়েছিল। আমার আসল টাকা এখনও উঠেনি। এর মধ্যে ঠিকাদার আবার অন্য কর্মচারী নিয়ে আমাকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। আমি এখন ফ্রি সার্ভিসে আছি রোগীকে সেবা দিয়ে কিছু বকসিস নিয়ে থাকি। আমি একা না এখানে আরও অনেক কর্মচারীরা আছে। যারা ফ্রি সার্ভিসে কাজ করে। আর রোগীকে সহযোগীতা যেমন রোগীকে ট্রলিতে উঠিয়ে নিচে নামা, উপরে উঠানো, সহ বিভিন্ন কাজ করা সেবা দিলে আমরা বকসিস নিয়ে থাকি। এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানাযায় খুমেক হাসপাতালে এরকম আরও কর্মচারীরা আছে। যারা নিয়মিত রোগীকে বেশি ওষুধ লিখে ওষুধ উধাও, নানা কৌশলে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে হাসপাতালটির পূর্বের ঠিকাদার মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিসেস এর পরিচালক হেমায়েত হুসাইন ফারুকের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ আইনাল হোসেন বলেন, আমি একটু ডাক্তারের চেম্বারে আমি বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলব। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ খুলনার বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ মুজিবর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালটির পরিচালকের সাথে কথা বলব, বিষয়টি দেখছি যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button