স্থানীয় সংবাদ

খুলনার বাস্তুহারায় পুলিশ-কলোনীবাসীর সংঘর্ষ : রণক্ষেত্রে আহত অর্ধ শতাধিক

# কলোনীবাসীর অভিযোগ : কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ আমাদের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও রবাট বুলেট ছুঁড়ে #
# পুলিশ বলছে : উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই কলোনীর বাসিন্দারা হামলা চালায়, আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন #
# সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি, পুলিশ সদস্যসহ আহত প্রায় অর্ধ শতাধিক, গোটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার নগরীর মুজগুন্নি ৯নং ওয়ার্ডস্থ বয়রা হাউজিং এস্টেট, সি ব্লক (বাস্তুহারা মুক্তিযোদ্ধা কলোনী) নামীয় অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ-কলোনীবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষ হয়। ওই সংর্ঘষের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। বিক্ষুব্ধরা সেখানে টায়ার জ¦ালিয়ে, গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ওই অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে পুলিশ লাঠি চার্জ করে এবং পাল্টা জবাবে স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিত নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষ্যে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া বুলডোজার গাড়ির উপরও হামলাসহ চালকের উপর মারাতœক হামলা চালানো হয়। পুলিশ কলোনীবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে কমপক্ষে অর্ধশতাধীক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই উচ্ছেদ করতে আসা পুলিশ বাহিনী আমাদের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং সর্বশেষ রবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। বিপরীতে পুলিশ বলছে, উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই তাদের উপর হামলা চালায় কলোনীবাসীর। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ পাশের এই জায়গাটি লটারির মাধ্যমে প্লট আকারে বিক্রি করেন। ৩ যুগের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনও জায়গা বুঝে পাননি সেখানকার ৪২ প্লট মালিক। সর্বশেষ, ওই জায়গা প্লট মালিকদের বুঝে দিতে সংশ্লিষ্টরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেন। অপর একটি সূত্র বলছে, মুক্তিযোদ্ধা কলোনী নামীয় জায়গায় মোট বরাদ্দকৃত প্লট ৪২ টি। মালিকদের বৈধতা ও মহামান্য হাইকোর্ট থেকে প্লট মালিকরা তাদের পক্ষে বার বার রায় পাওয়া সত্ত্বেও জায়গা বুঝে পাচ্ছেন না। প্রকৃত মালিকদের ওইসব প্লটে বাস্তহারা কলোনীর প্রায় দু’ শতাধীক পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে দীর্ঘ কাল ধরে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বাস্তহারা এলাকার কিছু কতিপয় আওয়ামী দোসররা প্রভাব খাটিয়ে ওই প্লটে অবৈধ বসবাসকারীদের স্থায়ীকরণের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কলোনীর বাসিন্দারা সেখানে বসবাস করে যাচ্ছেন। ওই প্লটের প্রকৃত মালিকেরা কলোনীবাসীর সাথে একাধিক বার বৈঠক করেও আজ অব্দি কোনো সুরাহা হয়নি। তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের প্লটে দখলে যেতে পারছেন না।
সার্বিক বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনার সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে : গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে অবৈধ দখলদারদের জায়গা খালি করার জন্য নোটিশ করি, মাইকিং করি। ওই সময় তারা সরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট হতে এক মাস সময় প্রার্থনা করেন। ওই সময় অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পর জানুয়ারী মাসে পুনরায় তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়, কিন্তু তারা তা করেনি। সর্বশেষ, শনিবারও তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। উচ্ছেদ একটি প্রক্রিয়া। নোটিশ করা পরও যদি কেউ না সরে তখন উচ্ছেদ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এ পর্যন্ত উচ্ছেদের জন্য আমি তিনবার অভিযান করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। প্রতিবারই তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গতকাল ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের উপস্থিতিতে ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহয়তায় উচ্ছেদ অভিযানে গেলে, অভিযান শুরুর আগেই পূর্ব হতে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা বহিরাগতদের দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় সংশ্লিষ্ট অফিসের দু’জন অফিস স্টাফ আহত হয়। এছাড়া তিনজন ড্রাইভার গুরুতর জখম হয়। এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। উধ্বর্তনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
সার্বিক বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে : জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিস্টরা তাদের জায়গা বুঝে নিতে বয়রা হাউজিং এস্টেট, সি ব্লকে বসবাসকারীদের কলোনীবাসীকে অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেন। ওই মোতাবেক রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সেখানকার অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি দেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহয়তা চাইলে তাদের সহয়তা করার জন্য সেখানে বাড়তি পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়। অভিযান শুরুর আগেই ওই কলোনীর বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সেখানে টায়ার জ¦ালিয়ে, গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অববোধ করে রাখে। পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া বুলডোজার গাড়ি ভেঙে দেয়াসহ চালকের মারাতœক হামলা চালায় তারা। এই পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় আমাদের সদস্যরা লাঠি চার্জ করে এবং টিয়ার সেল ছুঁড়তে বাধ্য হয়। ওই এলাকায়বাসীর হামলার খালিশপুর থানা অফিসার ইনচার্জসহ ১৪ জন সদস্য মারাতœকভাবে আহত হয়। এর মধ্যে ১১ জন্য চিকিৎসা নিয়ে ফিরলেও ৩ জন সদস্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গোটা এলাাকায় তারা রণক্ষেত্রে পরিনত করে। সর্বশেষে সংশ্লিষ্টদের সিধান্তনুসারে অভিযান স্থগিত করা হলে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।
সার্বিক বিষয়ে বাস্তুহারা কোলনীবাসীর বক্তব্য : বাস্তুহারা কেন বলা হয়, কারণ আমাদের কোনো ভিটা বা বসবাসের স্থায়ী জায়গা নাই। একটা সময় আমাদের পূর্ব-পুরুষ রেলের পাশের জায়াগায় বসবাস করতো, যারা অনেকেই আজ বেঁচে নেই। স্বাধীনতা পর সে সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের এই বাস্তুহারায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেই স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি আমরা যুগের পর যুগ ধরে এখানে বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছি। সরকার আসে, সরকার যায়। নেতা আসে, নেতা যায়। আমাদের স্থায়ীকরনের বিষয়ে আশ^াস-প্রশ^াস প্রদান করে কিন্তু তা আর বাস্তুবে রূপ পায় না। স্থায়ীকরনের জন্য বিভিন্ন সময়ে আমাদের কাছ থেকে ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি নিয়েছে, অর্থ নিয়েছে। তারপরও আমাদের স্থায়ীকরনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বাংলাদেশে যদি রোহিঙ্গাদের থাকার বন্দোবস্ত হয়, তবে আমরা তো এদেশের নাগরিক, আমাদের কেন স্থায়ীকরণ হবে না? আমরা কর্মজীবি মানুষ, বাবা-মা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে এখানে কোনো রকম মাথা গোজার ঠাঁই করে দীর্ঘদিন ধরে আমরা বসবাস করে আসছি। কেনো থেকে থেকে আমাদের উপর স্টিম রোলার চালানো হয় এর জবাব চাই, আমরাও তো রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। আমাদের দাবি একটা আমাদের অন্যত্র পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে তারপর উচ্ছেদ করুন। আমাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করুন, আমরা এমনিতেই এই জায়গা ছেড়ে দেবো। নতুবা আমাদের এই জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে গিয়ে উচ্ছেদ করতে হবে। আমাদের যদি মাথা গোজার ঠাঁই না থাকে, তবে বেচে থেকে লাভ কি? তারা আরো জানান, শনিবার রাতে এলাকায় মাইকিং করে যায়, আমাদের দু’দিনের মধ্যে নেমে যাওয়ার জন্য বলে। রাত পোহাতে না পোহাতে এমনি বুলডোজার নিয়ে হাজির সাহেবরা, সাথে পুলিশও আছে। তারা যখন গতকাল সকালে আমাদের উচ্ছেদের জন্য এগিয়ে আসে, আমরা শতবার তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তারা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। অবশেষে তাদের তোপের মুখে নারী ও শিশুদের এগিয়ে দেয়। নারী-শিশু দেখার পরও তারা লাঠি চার্জ শুরু করে। ওই অবস্থা দেখে এক পর্যায়ে আমরা আর শান্ত থাকতে পারিনি, মা-বোনের মাথা দিয়ে তাজা রক্ত বের হচ্ছে, এ দৃশ্য দেখে কে বসে থাকতে পারি? পুলিশের লাঠিচার্জ দমাতে আমরাও তাদের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকি। তারা আরো হিং¯্রাত্বক হয়ে আমাদের উপর টিয়ারসেল, রবার বুলেট নিক্ষেপ করে। অবশেষে আমাদের চাপের মুখে পড়ে তারা পিছু হাঁটতে বাধ্য হয় এবং অভিযান বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে ওই সংর্ঘষে আহত বাস্তুহারা কোলনীর বাসিন্দা শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, আমি একজন শিক্ষার্থী, একজন জুলাইযোদ্ধা। আমরা সুষ্ঠুভাবে কথা বলছিলাম। সামনের কাতারে ছিলাম। কেন পুলিশ আমাদের উপর হামলা চালালো। আমরা তো তাদের সাথে ঝাগড়ায় যায়নি, ঝামেলায় যায়নি। তবে কেন আমাদের এই হামলা। আমাদের থাকার মতো জায়গা দেন। বাংলাদেশে যদি রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা হয়, তবে আমাদের কেন স্থায়ীকরণ হবে না? থাকার স্থায়ী জায়গা পাবো না?। দাবি একটাই, আমাদের থাকার একটা স্থায়ী জায়গা দেন। আমরা এই জায়গা ছেড়ে চলে যাবো।
এ বিষয়ে ওই সংর্ঘষে আহত বাস্তুহারা কোলনীর বাসিন্দা কবির হোসেন মীর জানান, স্থায়ীকরনের জন্য বিভিন্ন সময়ে আমাদের কাছ থেকে ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি নিয়েছে, অর্থ নিয়েছে। তারপরও আমাদের স্থায়ীকরনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বাংলাদেশে যদি রোহিঙ্গাদের থাকার বন্দোবস্ত হয়, তবে আমরা তো এদেশের নাগরিক, আমাদের কেন স্থায়ীকরণ হবে না? দাবি একটাই একটা স্থায়ী জায়গা চাই। যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে মাথা গুজতে পারবো।
এ বিষয়ে ওই সংর্ঘষে আহত বাস্তুহারা কোলনীর বাসিন্দা মো. নাসির মোল্লা জানান, আমি এখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রায় ৪৫ বছর ধরে বসবাস করছি। আমি একজন দিনমজুর। শনিবার রাতে এলাকায় এসে মাইকিং করে যায়। গতকাল ভাঙতে চলে আসে, আমাদের কোনো নোটিশ করেনি। বলেন, হঠাৎ ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবো। অভিযানে আসা লোকদের সাথে কথা বলার আগেই পুলিশ মাথায় বাড়ী মেরে ফাটিয়ে দেয়। এ বিষয়ে ওই সংর্ঘষে আহত বাস্তুহারা কলোনীর বাসিন্দা মুক্তা জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে এখানে বসবাস করছি। এখন আমারই নাতি-পোতা হয়ে গেছে। দু’দিন পর পর এখন থেকে আমাদের নামে যেতে বলা হয়। আমরা তো এখনো থাকতে চাই না, একটা স্থায়ী থাকার জায়গা দেন আমরা সেখানে গিয়ে থাকবো। আপনারা আমাদের জায়গায় থাকলে বুঝতেন কিভাবে আমরা দিন কাটাচ্ছি।
এ বিষয়ে খালিশপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মীর আতাহার আলী জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের প্রধান কাজ ও দায়িত্ব। সরকারী দায়িত্ব পালনার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন সরকারি সংস্থা কোনো আমাদের কাছে সহয়তা চাইলে, সেটা প্রদান করাও আমাদের দায়িত্ব। গতকাল সকালে খালিশপুর থানাধীন বাস্তুহারা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ও সংশ্লিষ্টরা সেখানকার অবৈধ বসবাসকারীদের জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই আমাদের উপর হামলা চালায় কলোনীবাসীসহ বিক্ষুব্ধরা। তখন ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আমাদের সদস্যরাও তাদের হামলা প্রতিহত করা চেষ্টা চালায়। তাদের হামলায় আমিসহ ১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়াউর রহমান জানান, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে অবৈধ দখলদারদের জায়গা খালি করার জন্য নোটিশ করি, মাইকিং করি। ওই সময় তারা সরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদ্বয়ের নিকট হতে এক মাস সময় প্রার্থনা করেন। ওই সময় অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পর জানুয়ারী মাসে পুনরায় তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়, কিন্তু তারা তা করেনি। সর্বশেষ, শনিবারও তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। উচ্ছেদ একটি প্রক্রিয়া। নোটিশ করা পরও যদি কেউ না সরে তখন উচ্ছেদ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এ পর্যন্ত উচ্ছেদের জন্য আমি তিনবার অভিযান করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি। প্রতিবারই তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গতকাল ম্যাজিস্ট্রেট মহোদ্বয়ের উপস্থিতিতে ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহয়তায় উচ্ছেদ অভিযানে গেলে, অভিযান শুরুর আগেই পূর্ব হতে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা বহিরাগতদের দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় সংশ্লিষ্ট অফিসের দু’জন অফিস স্টাফ আহত হয়। এছাড়া তিনজন ড্রাইভার গুরুতর জখম হয়। এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। উধ্বর্তনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এ বিষয়ে উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মাদ তাইজুল ইসলাম জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে রবিবার সকালে বাস্তুহারা এলাকায় আমাদের কর্মকর্তাসহ সদস্যরা সহয়তার জন্য গেলে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই তাদের উপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় খালিশপুর থানার ওসিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
ঘটনা স্থলে আসা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপোরেশনস্) মো. রাশিদুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঘটনার বিষয়ে জানান, পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। আমরা অভিযান পরিচালনা করারও কেউ না, স্থগিত করারও কেউ না।¡ সরকারের এক কর্তৃপক্ষ অন্য কর্তৃপক্ষকে সহয়তা করা, এটা পুলিশের দায়িত্ব। গৃহয়ন কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযানে আমাদের সহয়তা চেয়েছিল। আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার করার জন্য চাহিদা মতো ফোর্স দিয়ে ছিলাম। তারা যেহেতু দেখলো এ অভিযান তাদের অনুকূলে নয়, তাই তারা অভিযান স্থগিত করেন। যেহেতু তারা উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে, তাই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে কেএমপি পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার জানান, গতকাল বাস্তুহারা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button