স্থানীয় সংবাদ

উপকূলে ঘেরেগুলতে লোনা পানি সংকটে চিংড়ি-কাঁকড়ার উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা

এস কে সিরাজ শ্যামনগর থেকে ঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলীয় জনপদ বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, পদ্মাপুকুর, মুন্সিগঞ্জ এলাকায় লোনা পানির অভাবে ব্যাপক হারে চিংড়ি মাছ ও কাঁকড়া মারা যাচ্ছে। এদিকে চলিত অর্থবছরে চিংড়ি মাছ ও কাঁকড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বেড়িবাঁধের ভেতরে বসানো অবৈধ নাইন্টি পাইপ অপসারণ করার পর থেকেই এ সংকট দেখা দিয়েছে। নাইন্টি পাইপগুলো দিয়ে নিয়মিত নদী থেকে লোনা পানি তুলে ঘেরগুলোতে সরবরাহ করে আসছছিল ঘের মালিকরা। কিন্তু নাইন্টি পাইপ অপসারণের কারণে বর্তমানে ঘেরে নতুন করে লোনা পানি ঢোকানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই পাইপগুলো উপকুলের বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে নদী থেকে লোনা পানি উত্তোলনের কারণে বেড়িবাঁধ ভাঙার অন্যতম প্রধান কারন। ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এমন অভিযোগ করে আসছেন দেশের পরিবেশবাদিরা।
ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অবৈধ পাইপগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর সেই নিদের্শনা বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে লোনা পানির বাগদা চিংড়ির ঘেরর জমির পরিমান ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর ১৬ হাজার ৩২৮ টি ঘের রয়েছে, কাঁকড়া ঘের রেয়ছে ১৮২ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ১১০ টি।
এদিকে হটাৎ নাইন্টি পাইপ অপসারণে সংকটে পড়েছে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষিরা। এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বিকাশ মন্ডল বলেন পানির প্রবাহ বন্ধ থাকায় মৎস্যঘেরের ভেতরের পানি দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে এবং অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন শত শত চিংড়ি ও কাঁকড়া মারা পড়ছে। মৎস্য ও কাঁকড়া খাতে ব্যাপকহারে ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় একাধিক ঘের মালিক জানান, উপকূলীয় এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া চাষই মানুষের প্রধান জীবিকা। কিন্তু হঠাৎ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক চাষি ক্ষতির কারণে ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে দুর্গাবাটি এলাকার ঘের ব্যবসায়ী বিকাশ চন্দ্র বলেন, বেড়িবাঁধে পাইপ বসানো আইনত নিষিদ্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না করে পাইপগুলো একসাথে তুলে ফেলায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান করি যাতে বিকল্প কোনো খাল, স্লুইসগেট বা বৈধ জলপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হোক। নইলে উপকূলের হাজারো মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় কাঁকড়া ব্যবসায়ী অনাথ মন্ডল জানান, বুড়িগোয়ালিনীসহ আশপাশের এলাকায় ঘের নির্ভরশীল প্রায় কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে। এভাবে পানি সংকট চলতে থাকলে মাছ ও কাঁকড়া উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে অবৈধ নাইন্টি পাইপ বসানোর কারণে নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁধের ক্ষতি হয় এমন কোন কিছু রাখা যাবে না। এ কারণেই আমরা অবৈধ নাইন্টি পাইপ অপসারণ করছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button