স্থানীয় সংবাদ

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৭ কোটি টাকার টেন্ডার পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনায় সাত কোটি টাকার টেন্ডার পছন্দের ঠিকাদারকে পেতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সে জন্য ঠুনকো অযুহাতে শিডিউল জমাদানের মেয়াদ এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করে গোপনে সর্বনি¤œ রেট জানানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে বঞ্চিত সাধারণ ঠিকাদারদের। বৃহস্পতিবার টেন্ডার শিডিউল খোলার শেষদিনে বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সুক্ষ্ম কারসাজী বুঝতে পারে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা। পুনরায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বনবিভাগের জেষ্ঠ্য একজন কর্মকর্তার আত্মীয়কে ঠিকাদারী কাজ দেওয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এহেন পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর জোর দাবি সাধারণ ঠিকাদারদের। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে ছয়তলা ফাউন্ডেশনের তিনতলা ভবন নির্মাণে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিডিউল বিক্রি হয়। দাখিলের শেষদিন ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। এর একদিন আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়। গতকাল দেখা গেছে সাতটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শিডিউল জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘শান্তা হোল্ডিংস্’ ও ‘মেসার্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডার্স এন্ড মেসার্স কালাই মোল্লা কনস্ট্রাকশন’ সবনি¤œ দরদাতা হয়েছেন। সামগ্রিক পর্যালোচনা করে কার্যাদেশ দেয়া হবে। সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিয়মবর্হিভূতভাবে ঠুনকো অযুহাতে শিডিউল খোলার দিন একসপ্তাহ পেছানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় হঠাৎ করে শিডিউল জমা দেবার দিন একসপ্তাহ বাড়ানো হয়। ওইদিনই সর্বনি¤œ দরদাতা রাজধানী ঢাকার ‘শান্তা হোল্ডিংস্’ দৌলতপুরস্থ পূবালী ব্যাংক থেকে পে-অর্ডার করেছেন। একই সাথে সূক্ষè কারচুপির মাধ্যমে তাকেই সর্বনি¤œ দরদাতা করানো হয়েছে। সাত কোটি টাকার টেন্ডারের কাজে ঢাকার দু’টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় সর্বনি¤œ দরপত্র জমা দিয়েছেন। এটা সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও টেন্ডার কমিটির যোগসাজস ব্যতীত কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গুণগত কাজ না হওয়ার শঙ্কার সৃষ্টি হল। একই সাথে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তাদের কোটি টাকার বাণিজ্যের সুযোগ হল বলে অভিযোগ সাধারণ ঠিকাদারদের। ফলে সরকারী রাজস্ব বৃদ্ধি ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পুনরায় দরপত্র আহবান করে সর্বাধিক ঠিকাদারের অংশগ্রহনে প্রতিযোগিতামুলকভাবে শিডিউল জমা দেবার সুযোগ সৃষ্টির দাবি বঞ্চিতদের। তাদের অভিযোগ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তার আত্মীয়কে কাজটি কৌশলে দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক, সিআইডি নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বিশাল সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন হবে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। টেন্ডার আহবায়ক কমিটির একজন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় ওপেনিং ডেট একসপ্তাহ পিছিয়ে দিয়েছিলাম। এই টেন্ডার কার্যক্রমে নিয়মের কোনো ব্যাত্যয় ঘটেনি। তারপরও কারো অভিযোগ থাকলে সিপিটিইউ বরাবর লিখিত অভিযোগ করতে পারেন সংক্ষুব্ধরা।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button