খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবেলায় সাইফুলের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জোরদার হচ্ছে

# শোকাহত পরিবারের পাশে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসী #
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ বর্তমান সময়ের সব থেকে আলোড়ন সৃষ্টি করা মর্মান্তিক ঘটনা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলায় ওয়ার্ডের আউটসোর্সিং কর্মচারী (ক্লিনার) জব্বার কর্তৃক অক্সিজেন খুলে নেওয়ার পর রোগির মৃত্যুর ঘটনাটি মানুষের হৃদয় দাগ কেটেছে। এ ঘটনার পর থেকে যাদের দায়িত্বে অবেলায় সাইফুলের মৃত্যু হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির ক্ষতিপূরণের দাবি জোরদার হচ্ছে। অসহায় এই পরিবারটির পাশে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট ১ এর ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড ওয়ার্ডের ক্লিনার জব্বার সাইফুল ইসলামের অক্সিজেন খুলে নিয়ে পার্শবর্তি অন্য একটি রোগীকে দেয়। অক্সিজেন খুলে নেওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। দৈনিক প্রবাহসহ দেশের মূল ধারার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর গঠিত হয়েছে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এবং অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন । এই ঘটনার পর হসপিটালের সামনে ছাত্র জনতার ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন দেয়া হয়েছে পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি। এদিকে, গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালে শোকাহত সাইফুলের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তার বাসায় যান বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসী নামের একটি সংগঠন। তারা নিহত সাইফুলের কবর জিয়ারত শেষে স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন একজন আউট সোর্সিং ক্লিনার (জব্বার) এত ক্ষমতা পেলো কোথায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অক্সিজেন খুলে নিল খুলনার মানুষ তা জানতে চায়। সাইফুলের মৃত্যুর ঘটনার সাথে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলাই দায়ী। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কে উপযুক্ত ক্ষতি পুরন দিতে হবে এবং দোষিদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত পুর্বক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে অন্যথায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ কে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সহ সভাপতি মোঃ জামাল মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহাবুবুর রহমান খোকন, নির্বাহী সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিপু, মোঃ মেজবাহ উদ্দিন পাপ্পু, মোঃ বাপ্পি, মোঃ আবু বক্কার মোঃ আজমল হোসেনসহ প্রমুখ। উপস্থিত একজন গণমাধ্যম কর্মী বলেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুদক হাসপাতালে যে অভিযান চালিয়েছে তাদের সেই অভিযানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কথা উঠে এসেছে। এছাড়াও তারা প্রমাণ পেয়েছে অভিযুক্ত জব্বার অক্সিজেন খুলে নেয় এবং তার পর সাইফুলের মৃত্যু হয়। এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবস্থাপনায় সাইফুলের মৃত্যুর ঘটনায় ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের বরাবর ১৩দফা দাবী সম্বলিত স্বারকলিপি দেয় খুলনার সর্বস্তরের ছাত্র জনতা। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর স্বারকলিপির আপডেটের বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধি দল পরিচালকের সাথে সাক্ষাত করবেন বলে জানাগেছে।



