খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি।

প্রবাহ রিপোর্ট : খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলার আশেপাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। গতকাল শনিবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় এই আদেশ অমান্য করলে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এদিকে, এক ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলছিল। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে চলছে এই অবরোধ চলে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল। অবরোধকারীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালান, গাছে অগ্নিসংযোগ করেন। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করেছন। খাগড়াছড়ির আলুটিলা পুনর্বাসন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর ও চালককে পিটিয়ে আহত করেন অবরোধকারীরা। দুপুর ১টার দিকে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ও উপজেলা পরিষদ এলাকায় উত্তেজিত পাহাড়ি ও বাঙালিদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুরো জেলায় পরিস্থিতি থমথমে বলে জানা গেছে। এদিকে, পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অবরোধে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার কাজ করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শতাধিক পর্যটককে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলা পার করে খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে আসে। তাদের পরে নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলাপ্রশাসক মো. এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়িতে একদল দুর্বৃত্ত এক ছাত্রীকে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির পর একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা অজ্ঞাত তিন জনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, পুলিশ সর্তক রয়েছে। সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন আছে।



