নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে খুলনায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ “জলাতঙ্ক নির্মূলে, কাজ করি সবাই মিলে” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় রবিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে সকাল ১০ টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ১০ টায় বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সাহেদ মোঃ মনজুর আলম। খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ গোলাম হায়দারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পাবলিক হেলথ এর উপ পরিচালক ডাঃ এ বি এম জাকির হোসেন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ পরিচালক ডাঃ স্বপন কুমার রায় ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনূর জাহান। স্বাগত বক্তৃতা করেন জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ শরিফুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবছর সারা পৃথিরীতে ৫৯ হাজার লোক জলাতংক রোগে মারা যায়। প্রতি ১৫ মিনিটে ১ জন মারা যায়। ১০জন জলাতংকরোগীর মধ্যে ৪জনই শিশু। পৃথিবীর আফ্রিকা ও এশিয়ায় বেশী মানুষ মারা যায় জলাতংক রোগে। সম্প্রতি কুকুরকে জলাতংক প্রতিষেধক টিকার পরিবর্তে খাওয়ার ওষুধ তৈরী হয়েছে। বর্তমান জার্মানসহ কয়েকটি দেশে এ ওষুধ কুকুরকে খাাবরের সাথে খাওয়া হচ্ছে। এ ওষুধ যাতে বাংলাদেশ সরকার আমদানি করে সে জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হবে। ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সুমনা তানজুম পায়েলের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা ভেটেরিনারি অফিসার ডাঃ সঞ্জয় বিশ্বাস, ডুমুরিয়া প্রাণিসম্পদ অফিসার মোঃ আশরাফুল ইসলাম কবীর, দাকোপের ডাঃ বঙ্কিম কুমার হালদার, একমির ডাঃ কে এম জসীম উদ্দিন প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি ভয়ংকর ব্যাধি। সচেতনতার অভাবে দিন দিন এ রোগে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। পরে পাওয়ার হাউজ মোড়ে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে পোষা কুকুর ও বিড়ালের জলাতঙ্ক টিকা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ দিবসটি পালিত হয়েছে। মোট ৯ হাজার ৫৫০ জলাতঙ্ক টিকা বরাদ্দ ১০ জেলায়। এবারই প্রথম পোষা কুকুর ও বিড়ালকে ফ্রী টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে বেওয়ারিশ কুকুরকে জানুয়ারী মাস থেকে এ টিকা দেয়া ব্যাপক আকারে কার্যক্রম শুরু করা হবে।



