স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরের রেল স্টেশন সড়কটি যেন পুকুর!

# বেহাল সড়কের উঁচু-নিচুঁ গর্তে স্বাভাবিক চলাচলে দুর্ভোগ চরমে, ঘটছে দূর্ঘটনাও #
# গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহন, দ্রুত সংস্কারের জারালো দাবি

মোঃ আশিকুর রহমান ঃ খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর ৩ নং ওয়ার্ডস্থ প্রায় ১ কিলোমিটারের রেল স্টেশন সড়কটি (ডি.সি রোড- মুহসীন মোড় হতে রেলিগেট নগরঘাটের আগের চৌ-রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়কটি) এতদাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ন সড়ক। দৌলতপুর এলাকার একটি মাত্র কাঁচা সবজির পাইকারি বাজারসহ রপ্তানিযোগ্য পাটের কারখানা ও দৌলতপুর রেলস্টেশনের যাতায়াতের একটি মাত্র সংযোগ সড়ক এটি। প্রতিদিনই খুলনার আশ-পাশের জেলা শহর হতে গভীর রাতে কাঁচা তরিতরকারি বোঝাই মালবাহি ট্রাকসমূহ এসে হাজির হয় পাইকারি বাজার সম্মুখে। শিল্পনগরী খ্যাত খুলনার দৌলতপুরের পাটের সেই জৌলুস হারালেও বহু পাট বোঝাই ট্রাকও যাতায়াত করে আজও এই সড়ক ধরে। তাছাড়া স্থানীয়দের কর্মব্যস্ততা শেষে ঘরে ফেরারও মাধ্যম একই সংযোগ সড়কটি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গুরুত্বপূর্ন সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। সড়কটি এতোটাই বেহাল, যে বড় গর্তে জল জমে এখন যেন পুকুরে পরিনত হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা কোন সড়ক নাকি পুকুর! ওই বেহাল সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহতসহ উচুঁ-নিচুঁ খানাখন্দ, আর বড় বড় খর্তে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে ইজিবাইক, ভ্যান-রিক্সা উল্টে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে কেসিসি জলাবদ্ধতা নিরসনের স্টেশন রোডে ড্রেনের কাজ করলেও তার কিছু অংশ অসম্পন্ন থেকে যায়। বিশেষ করে স্টেশন/ডিসি রোডের ইস্পাহী ১নং গেট হতে হেলালের বাগান পর্যন্ত ড্রেন খোঁড়াখুঁড়ির অসমাপ্ত কাজের দরুন জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে, আকাশ হতে সামান্য বর্ষার ফোটা পড়লেই সড়কটিতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিচ্ছি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি পাশর্^বর্তী দেয়াড়া কোলনী ঘাট পার হয়ে গভীর রাতে বহু মূমূর্ষ রোগী নিয়ে তাদের স্বজনরা এই সড়ক হয়ে হাসপাতালে গন্তব্য করেন, ওই সময়ে এই সড়ক দিয়ে কিভাবে তারা হাসপাতালে পৌচ্ছাবেন, প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের প্রতি। এমতবস্থায় সড়কটি দীর্ঘদিন উঁচু-নিচুঁ গর্ত আর খানাখন্দে বেহাল দশায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্টরা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ গ্রহন করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমিক ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি মেরামত বা সংস্কারের জন্য সংশ্লিস্টদের প্রতি জোড়ালে দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, রাস্তা ভাঙার কারণে গাড়ী থেকে মাল ওঠানামাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। বাজারের ভেতরে গাড়ী ঢোকাতে চায় না ড্রাইভাররা। বলতে গেলে প্রতিদিনই গর্তের ভেতর ইজিবাইক/ভ্যান পড়ে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দীর্ঘদিন রাস্তাটি এমন খারাপ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না। ব্যবসায়ী সাঈদ জানান, বর্ষা হলে চেনার উপায় থাকে না, এটি পুকুর নাকি চলাচলের রাস্তা। সড়কটি দীর্ঘদিন খানাখন্দে পড়ে আছে। গর্তের মধ্যে পড়ে প্রায় ভ্যান রিক্সা উল্টে যাচ্ছে, দূর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া বিশাল গর্তের কারণে মালবাহী ট্রাক মালামাল উঠানামা করাতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান চায়। এ বিষয়ে অভিযোগ করে ব্যবসায়ী মনির জানান, বড় বড় বালির গাড়ির কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বালির গাড়ি ব্রেক করলে রাস্তা ঢেবে যাচ্ছে। বালুর ব্যবসা করুক, তাতে আপত্তি নাই। কিন্তু রাস্তার দিকেও খেয়াল করা উচিৎ। ইস্পাহানী জুট সম্মুখের ব্যবসায়ী মনির হোসেন পিন্টু জানান, পাটসহ ট্রাকের ওজন থাকে প্রায় ২০ টনের মতো। রাস্তার অবস্থা এতোটাই খারাপ যে, ওই লোডের ট্রাক নিয়ে এদিক, ওদিক হেলে পড়ে, দূর্ঘটনার ঝুকি দেখা দেয়। যাতায়াতেও মানুষের খুব কষ্ঠ হচ্ছে। এ অবস্থায় রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। দিনমজুর আলী হোসেন জানান, ট্রাক থেকে মাথায় করে বস্তা নামিয়ে দু’চার দিন পানির ভেতর পড়ে গিয়ে কোমড়ে ব্যাথা পেয়েছি। আর এই ভাঙ্গা রাস্তার থেকে ট্রাক ভেতরে যাবে কি করে? কাজ না করলে খাবো কি?
এ বিষয়ে হেলালের বাগান বাসিন্দা মো. জিয়া জানান, এই বাগানে বসবাস করছি বহু বছর। এই রাস্তাটি দিয়ে আমাদের শহরে যেতে হয়। রাস্তাটি এতো ভাঙ্গা যে, বর্ষার সময় হাটুজল জমে। আমি একজন দিনমজুর, কাজে যাওয়ার সময় আছে, ফেরার সময় নেই। আকাশ থেকে একটু পানি ফোটা পড়তেই বাড়ী ফিরতে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। রিক্সা চালক রফিক জানান, হেলালের বাগানের দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করছি। রিক্সাচালিয়ে পরিবার চালায়। রাস্তাটি এতো খারাপ বর্ষাকালে অন্য গাড়ী যাওয়ার সময় কাপড় নষ্ট করে দেয়। ভাঙ্গা রাস্তায় যাত্রী পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাসির জানান, আমার এক আত্মীয় নিয়ে কোলনী ঘাট পার হলে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম, রাত তখন অনেক। রোগী নিয়ে যাচ্ছিলাম এই রাস্তা দিয়ে। কি বলবো, আমি নিজেই যেন রোগী হয়ে গেলাম, তাহলে প্রকৃত রোগীর অবস্থা কি হবে। এ বিষয়ে খুলনা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজার মো. সুলতান রশীদ জানান, এক সময় এই জায়গায় দিন-রাত জুড়ে শত শত পাটের ট্রাক আসতো। শ্রমিকের কোলাতানে মুখরিত থাকতো গোটা এলাকা। এখন আগের মতো পাটের সুদিন নেই। তারপরও পাট নিয়ে বিভিন্ন জেলা শহর হতে পণ্যবাহী ট্রাক আসে। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানের সম্মুখের সড়কটি বেহাল দশায় পড়ে আছে। তাছাড়া রাস্তাটি সংকীর্ণ, প্রশস্তকরণের দরকার। সংর্কীণ সড়কের কারণে ট্রাক ঘুরতে গিয়ে চালকেরা অনেক সময় স্থাপনার ক্ষতি সাধন করছে। তাছাড়া বিগত দিনে ১নং গেট হতে হেলালের বাগান পর্যন্ত ড্রেন খোঁড়াখুঁড়ির অসমাপ্ত কাজের দরুন, রাস্তার উপর জমে থাকা পানি নামতে না পের সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, দুর্ভোগ বাড়ে। এ বিষয়ে কেসিসির উপ-সহাকারী প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী জানান, সম্প্রতি ১৫’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে সড়কটির সংস্কারের জন্য অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে, অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী খান মশিউজ্জামান জানান, সড়কটি বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button