নিরাপত্তা হেফাজতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক অধ্যক্ষ ফিরে আসার খবরে আতংকিত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

# ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল নিয়ে ষড়যন্ত্র #
স্টাফ রিপোর্টারঃ নগরীর ৬৬ নং বসুপাড়া লেনে ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল। ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল গড়ে ওঠে ১৯৯৪ সালে। খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত ওই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ৩৮ জন এবং শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ১০০। প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহ গনঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে পালিয়ে যান। তাকে কলেজ থেকে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে নিরাপদ হেফাজতে নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য করা, শিক্ষকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা নেয়া, পছন্দসই গাইড বই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়াসহ নানা অভিযোগ আনে তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ৫ আগস্টের পর স্কুলের পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার পর কেসিসির প্রশাসক স্কুলের উপাধ্যক্ষ ইমরুল কায়েসকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। আর অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহ ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পালিয়ে গিয়ে আতœগোপনে চলে যান। এ সময় কেসিসি কর্তৃপক্ষ সাবেক সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এর কিছু দিন পর ২৫ আগস্ট’২৪ অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহ পদত্যাগ পত্র জমা দেন। এ সময় কেসিসির গঠিত কমিটি কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। একই সাথে অধ্যক্ষকে যে সাসপেন্ড করে কেসিসি কর্তৃপক্ষ তারও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে উল্লেখ্য যে, সাবেক অধ্যক্ষ আরিফ বিল্লাহ খুলনা নগর স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি পদে ছিলেন। তবে পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৫ আগস্টের পর শিক্ষকদের জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে কি না সে ব্যাপারে তদন্ত করে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে দিতে বলা হয়। সে মতে, তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তদন্তকালে সদস্যরা নিশ্চিত হয়, সাবেক অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এতে করে মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনার আলোকে অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহকে তার বেতন-ভাতা দেয়া যেতে পারে। সেই তদন্ত রিপোটের সুপারিশের আলোকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেসিসির এক সভায় অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহকে বেতন ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ওই তদন্ত কমিটি আরো কিছু সুপারিশ করেছে। সেই সুপারিশে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এ সুপারিশের আলোকে অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহকে বেতন-ভাতা চালু করলেও আপাতত অধ্যক্ষ পদে ফেরার সুযোগ নেই। কারণ তার আর্থিক কেলেংকারী তদন্ত শেষ হওয়ার পর ওই তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান জানান। তিনি বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহের অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে শিগগিরই স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। এখানে আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কোন ব্যাপার নেই। যারা বলছেন তারা বিষয়টি না বুঝেই বলছেন বলে তিনি জানান। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস বলেন, অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহ বিগত দিনে মুজিব কোর্ট পরিয়ে শিক্ষকদের এলাকা দিয়ে ঘুরাতেন। মুজিব প্রেমিক হয়ে সব কিছু সুবিধা ভোগ করেছেন। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি পরিবর্তন হয়ে এখন জামায়াত নেতা হয়েছেন। ওই দলের ক্ষমতা তিনি ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। ইতোমেধ্য তিনি একাধিকবার কলেজে এসেছেন দলবল নিয়ে। এতে করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা রয়েছে আতংকে। এতে করে শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে পড়ছে। কেসিসির একটি পক্ষ তাকে অনিয়মভাবে আবারো চেয়ারে ফেরত দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য মোটের শুভকর নয় বলে তিনি দাবি করেন। স্কুলের এইচএসসি প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আসিন আহমেদ ও আবির বিন সিদ্দিক বলেন, অধ্যক্ষ আবু দারদা মো. আরিফ বিল্লাহের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন ছিল তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তিনি কোন রাজনীতি করতেন তার জন্য নয়। তার দুর্নীতির বিচার চাই। তিনি আবার স্কুলে ফিরে আসুক এটা শিক্ষার্থীরা চায় না। যদি কেসিসি কর্তৃপক্ষ তাকে পূণরায় ফেরৎ আনেন তবে তারা আন্দোলনে নামবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, কলেজটির সাবেক এই অধ্যক্ষ ক্যাম্পাসে ঢুকে আন্দোলন কারীদের শায়েস্তা করবে মর্মে হুমকী দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।



