সকল ধর্মের মানুষ নিয়ে সাম্য, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি করতে হবে : মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সকল ধর্মের মানুষ নিয়ে সাম্য, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরির ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে কাউকে সামাজিক মর্যাদা এবং নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে পারি না। তিনি বলেন, এ দেশে বসবাসকারী সকল নাগরিকের নিরাপত্তা এবং অধিকার রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সব সময় যেকোনো সমস্যা ও সংকটে আপনাদের পাশে একজন ভাই, বন্ধু, নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব। পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে দাওয়াত দেওয়ায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের উৎসব যেন শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে পালন করতে পারেন সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা উপজেলার দারুলমল্লিক হরিণখোলা কালীনগর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। দারুল মল্লিক হরিণখোলা কালীনগর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি এডভোকেট তরুণ কান্তি রায় এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তপন গোলদারের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে ৪নং দেলুটি ইউনিয়নের সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল সরদার, সহ সভাপতি রশিদ বিশ্বাস, সেক্রেটারি মো. সেলিম গাজী, খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এডভোকেট রুহুল আমিন গাজী, ইউনিয়ন সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম গাজী, সাংগাঠনিক সেক্রেটারি মো. মঞ্জুরুল আলম, ওলামা বিভাগের মো. মান্নান গাজী (মন্নাফ), শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন সভাপতি মো. আলামিন গাজী, যুব বিভাগের মো. আছাদুল সরদার, কালীনগর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির অমৃত ঠিকাদার, শ্যামৃয়েল হালদার, রনধীর মন্ডল, শ্রী মৃগঙ্গ মন্ডল, প্রতুল হালদার, সুশান্ত ঘোষ প্রমুখ। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা মানুষ। আমাদের দ্বিতীয় পরিচয়, এদেশে আমাদের যাদের জন্ম হয়েছে আমরা সবাই বাংলাদেশী। একজন বাংলাদেশী নাগরিককে আমার দেশের সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে সকল ধর্মের নাগরিক সমানভাবে তা ভোগ করবে। আমরা তার কমবেশি দেখতে চাই না। তিনি বলেন, মেধা যোগ্যতার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশের দায়িত্ব পালন করবে এদেশের তরুণ সমাজ। এখানেও আমরা কোনো ব্যবধান বরদাশত করবো না। এই আঙিনাকে আমরা পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। আমি শুধু আমাদের কথা বলছি না। আমি বলবো যারাই রাজনীতি করেন মেহেরবানী করে একটা রাজকীয় মন নিয়ে আসেন। আমি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অনুরোধ করবো, আসুন আমরা পরস্পরকে ভাই এবং বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি। তাহলে হিংসা এবং হানাহানি থাকবে না। কোনো ধর্ম কাউকে দুর্বৃত্ত হতে শেখায় না। হিংসা-প্রতিহিংসা শেখায় না। আমি তা বিশ্বাস করি না। এ রকম যদি কিছু হয় তাহলে সেটা ধর্মই না। ধর্ম মানুষকে পরিশীলিত করে। ধর্ম মানুষকে মানুষ বানায়। পাশবিক চরিত্র যাদের আছে তাদেরকেও মনুষত্বের দিকে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এবং বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও কর্মক্ষেত্র হোক। কেউ যেন অসৎ উদ্দেশ্যে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আপনাদের ব্যবহার করতে না পারে। নিরাপদ এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।



