মঞ্জুরকৃত ২৫৪টি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন ৯৭জন : কর্মকান্ডে চরম অচলাবস্থা

# মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরে দক্ষ জনবল নিয়োগে মন্ত্রণালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরে মঞ্জুরকৃত ২৫৪টি কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদ থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ৯৭ জন। কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রতিনিয়ত অবসরে যাওয়ায় দিনদিন জনবল শুন্যতার কোটায় যাওয়ায় বোর্ডে কর্মকান্ডে চরম অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বোর্ডে মঞ্জুরকৃত ২৫৪ টি কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদের স্থলে ১৫৭টি পদ শুন্য হয়ে গেছে। দায়িত্ব পালন করছেন ৯৭জন। এর মধ্যে নিয়োগযোগ্য শুন্য পদের সংখ্যা ৮৬টি ও পদোন্নতিযোগ্য শুন্য পদের সংখ্যা ৭১টি। বোর্ডে জনবল শুন্য অবস্থা থেকে উত্তোরণে মন্ত্রণালয় অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডে কর্মরত সচিব প্রফেসর এস.এম. মাহাবুবুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে জনবল শুন্যতা দূর করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জনবল নিয়োগে স্বচ্ছতার পাশাপাশি মেধাবী ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। কোটা পদ্ধতিকে উর্ধ্বে রেখে আইটি ও বুয়েট পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দিককে গুরুত্ব দেয়া হবে যাতে বোর্ডে আগামীতে মঞ্জুরকৃত পদগুলো পূরণ হয় দক্ষ জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানাগেছে, বোর্ডে ১ম শ্রেনি অনুমোদিত পদ মর্যাদার ২৫টি পদের স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন ২১ জন। ৪টি পদ শুন্য হয়ে পড়েছে। এগুলো হচ্ছে, উপ- পরিচালক(হিওনি), প্রধান মূল্যায়ন অফিসার,উপ-সচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন) ও উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক ( নিবন্ধন)। ২য় শ্রেণি অনুমোদিত পদ মর্যাদার ২৩টি পদের স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন ১৪জন, ৯টি পদ শুন্য হয়ে পড়েছে। এগুলো হচ্ছে,সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ২টি,সহকারী কলেজ পরিদর্শক ১টি,সহকারী হিসাব অফিসার ১টি, নিরাপত্তা অফিসার ১টি,সহকারী ক্রীড়া অফিসার ১টি,উপ-সহকারী প্রকৌশলী ১টি,সহকারী গ্রন্থাগরিক ১টি ও গণ সংযোগ অফিসার ১টি। ৩য় শ্রেনি অনুমোদিত পদ মর্যাদার ১২৩টি পদের স্থলে দায়িত্ব পাল করছেন ৩৭জন। ৮৭টি পদ শুন্য হয়ে পড়েছে। এগুলো হচ্ছে, সেকশন অফিসার ৬টি, হিসাব রক্ষক ২টি, অডিটর ১টি, স্টেনোগ্রাফার ১টি, উচ্চমান সহকারী ৯টি,জুনিয়র অডিটর ৩টি, হিসাব সহকারী ৯টি, স্টেনোটাইপিষ্ট ৪টি, ক্যাশিয়ার ১টি, স্টোর কিপার ১টি, ক্যালিগ্রাফিস্ট ৪টি, কেয়ার টেকার ১টি, গবেষণাসহকারী ১টি, ক্যাটালগার ১টি, লাইব্রেরী সহকারী ১টি, পরিসংখ্যান সহকারী ২টি, অর্ভ্যথনা সহকারী ১টি, ড্রাফটসম্যান ১টি, নি¤œমান সহকারী ২৬টি, সনদ লেখক ৬টি,ডাটাএন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর ২টি ও গাড়ীচালক ৩টি। ৪র্থ শ্রেনি অনুমোদিত পদ পর্যাদার ৮৩টি পদের স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫জন। শুন্য হয়ে পড়েছে ৫৮টি। এগুলো হচ্ছে, বার্তা বাহক ১টি, সহকারী মেকানিক ১টি, ক্যাশ সরকার ১টি, সাইক্লোষ্টাইল মেশিন অপারেটর ২টি, রেকর্ড সাপ্লায়ার ৩টি, নাম্বারিং মেশিন অপারেটর ৪টি,সশস্ত্র প্রহরী ৪টি,দারোয়ান/গার্ড/ নৈশ্য প্রহরী ১০টি, মালী ২টি,মটরযান ক্লিনার ১টি,কম্পিউটার এটেন্ডেট ২টি,ঝাঁড়–দার ৭টি, এম.এল.এস.এস ১৯টি ও কার্পেন্টার ১টি । সচিব এস.এম. মাহাবুবুল ইসলাম আরো বলেন,বোর্ডে কর্মরত যে সব কর্মকর্তা পদপর্যাদা ও কর্মচারী রয়েছেন,তাদের অনেকে অদক্ষ। তাদের দিয়ে বোর্ডের কার্যক্রমন পরিচালনার ক্ষেত্রে দারুণভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই তাদেরকে ইতিমধ্যে বোর্ডে দায়িত্ব পালনের প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষনের পর তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাদেরকে পদোন্নতির অযোগ্য হিসাবে গন্য হবেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের জন্য বোর্ডে দক্ষ জনবল প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বোর্ডে দক্ষ জনবল নিয়োগের ব্যাপারে ইতিমধ্যে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম এর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।



