আন্তর্জাতিক

রুশ হামলায় ইউক্রেনের রাজধানীতে বিদ্যুৎ-পানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন

প্রবাহ ডেস্ক : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গতকাল শুক্রবার ভোরে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় শহরের বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা ও রেল ব্যবস্থায় রাশিয়ার বিমান হামলা বেড়েছে। আগের তিন শীতকালেও এমন হামলা চালানো হয়েছিল, ফলে প্রচ- ঠান্ডায় মানুষ গরমের ব্যবস্থা ছাড়াই দিন কাটাতে বাধ্য হয়। এএফপির সাংবাদিকরা জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে কিয়েভে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, ‘দেশের রাজধানী রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে।’ পাশাপাশি তারা কিয়েভের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বানও জানায়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেন, রুশ বাহিনী ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ক্লিটসকো টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ নেই। ফলে পানির সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী স্বেতলানা গ্রিনচুক বলেন, রুশ বাহিনী ‘বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা’ চালাচ্ছে। গ্রিনচুক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জ্বালানি কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলেই কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত নিরূপণ ও পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করবেন।’ রাশিয়ার হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রের আশঙ্কায় গতকাল শুক্রবার ইউক্রেনজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেডোরভের জানান, রাশিয়া জাপোরিঝিয়া এলাকায় কমপক্ষে সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ওই হামলার ফলে সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে তিন ব্যক্তি আহত হয়েছে। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেডোরভের জানান, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলেও রাশিয়া সাতটি ড্রোন হামলা চালায়। এতে সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয় এবং অন্তত তিনজন আহত হন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button