স্থানীয় সংবাদ

সাতক্ষীরার সীমান্ত দিয়ে নারী পাচারকালে দুই মানবপাচারকারী আটক

# পাচারের শিকার নারী উদ্ধার, থানায় মামলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্ত দিয়ে এক বাংলাদেশী নারীকে ভারতে পাচারকালে দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ওই নারীকে। শনিবার বিকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের কুলিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় এবং ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। এর পর রাতে মামলা দায়েরের পর তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পাচারকারীরা হলেন, সদর উপজেলার কুলিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র আবুল কালাম (৭৪) ও আবুল কালামের পুত্র মোঃ ইমরান হোসেন (২৩)। সম্পর্কে তারা দুই জন পিতা ও পুত্র।
এছাড়া, উদ্ধার হওয়া ওই নারী হলেন, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার দাশেরডাঙ্গা গ্রামের জিয়া শেখের কন্যা সেতু আক্তার (২৩)।
বিজিবি জানায়, সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্ত দিয়ে এক বাংলাদেশী নারীকে ভারতে পাচার করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি ৩৩ ব্যাটেলিয়নের একটি আভিযানিকদল তলুইগাছা সীমান্তের মেইন পিলার ৩ ও সাবপিলার ১৩ হতে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কুলিয়াডাঙ্গা নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে পাচারকারী পিতা-পুত্র আবুল কালাম ও ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাদের বাড়ি থেকে সেতু আক্তার নামের ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই পাচারকারীর বরাত দিয়ে বিজিবি আরো জানায়, আটক মানবপাচারকারী আবুল কালাম ও ইমরান হোসেনসহ পাচার চক্রের আরো ১৫ জন পলাতক আসামীর সহায়তায় সেতু আক্তারকে ভারতে পাচার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু বিজিবির কঠোর নজরদারী ও টহল তৎপরতায় তারা পাচার করতে না পেরে সুযোগের অপেক্ষায় তাদের বাড়িতে এনে রাখে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আশরাফুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই মানবপাচারকারীসহ পাচারের সাথে জড়িত পলাতক আরো ১৫ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে রাতেই থানায় মামলা দায়ের এবং দুই পাচারকারীসহ উদ্ধার হওয়া নারীকে সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই পাচারকারীসহ উদ্ধার হওয়া নারীকে আজ রবিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় সাবেক এমপি হাবিবসহ সকল আসামী খালাস পাওয়ায় আনন্দ মিছিল
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার হয়রানী মূলক মামলা থেকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. শেখ আব্দুস সাত্তারসহ সকল আসামী হাইকোর্ট থেকে খালাস পাওয়ায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আয়োজনে রবিবার সকালে আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি কোর্ট চত্বর এলাকার সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক অ্যাড. আকবর আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, অ্যাড. এবিএম সেলিম, অ্যাড. শহীদ হাসান, অ্যাড. মোস্তফা জামান, অ্যাড. শাহরিয়ার হাসিব, অ্যাড. ইমরান শাওন, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম, অ্যাড. আলমগীর আশরাফ, অ্যাড. মোঃ শিহাব মাউস, অ্যাড. সরদার সাঈদ, অ্যাড. মিজানুর রহমান বাপ্পি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০০২ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার ১২ বছর পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব ও বর্তমান পিপি অ্যাড. আব্দুস সাত্তারসহ ৫০ নেতা-কর্মীর নামে থানায় একটি মিথ্যা হয়রানী মূলক মামলা দায়ের করা হয়। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে ওই মামলায় সাবেক এমপি হাবিবসহ ৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। এর মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবকে সর্বোচ্চ ৭০ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় ৫০ জনের মধ্যে ৪ জন বিনা চিকিৎসায় মারা যান। চলতি বছরের গত ২২ অক্টোবর বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৪৬ আসামিকে খালাস দেয় উচ্চ আদালত। বক্তারা আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে আদালত খালাস দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button