জাতীয় সংবাদ

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারীর মৃত্যু

তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
নিহতের পরিবার পাবে ৫ লাখ

প্রবাহ রিপোর্ট : রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনের ফুটপাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, নিহত ব্যক্তি ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচ দিয়ে হাঁটছিলেন। ঠিক সে সময় উপর থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়ে তার মাথায় আঘাত লাগে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম (৩৫), তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং আশপাশের ভবন কেঁপে ওঠে। পরে দেখা যায়, এক পথচারী মাটিতে লুটিয়ে আছেন এবং মাথায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন। স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় পাশে থাকা একটি চায়ের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, ফার্মগেটের খেজুরবাগান মোড়ে মেট্রো লাইনের গার্ডারের একটি বিয়ারিং জয়েন্ট খুলে নিচে পড়ে যায়। তিনি বলেন, “নকশায় ত্রুটি ছিল। আগেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। জাপানিজ ঠিকাদারদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য বলা হলেও তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।” বিয়ারিং প্যাড একটি বিশেষ রাবারজাত উপাদান, যা পিলার ও ভায়াডাক্টের সংযোগস্থলে বসানো থাকে। প্রতিটির ওজন প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি। এগুলোর মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের সময় সৃষ্ট চাপ পিলারের মাধ্যমে মাটিতে সঞ্চারিত হয়। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় মেট্রো লাইনের একটি অংশে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল। সে সময় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের সেই প্রেক্ষাপটেই এবার দ্বিতীয়বার এমন দুর্ঘটনা ঘটল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, মেট্রো লাইনের বিয়ারিং প্যাড পড়ে একজনের প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল রোববার বিকালে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পাঁচ সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফকে। কমিটিতে কারিগরি ও প্রকৌশলগত ত্রুটি পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় (বুয়েট) এবং সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম তৌফিক হাসান, এমআইএসটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম এবং ডিএমটিসিএলের (লাইন-৫) প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব। উপসচিব আসফিয়া সুলতানা কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার খামারবাড়ি এলাকায় মেট্রো লাইনের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালাম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ^রকাঠি এলাকার জলিল চোকদারের ছেলে। মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতের দাফন-কাফনের সব খরচ সরকার বহন করবে। সেই সঙ্গে নিহতের পরিবারের কেউ কর্মক্ষম ও বেকার থাকলে যোগ্যতা অনুযায়ী তার চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। এর আগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় বিয়ারিং প্যাড খসে পড়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনও গতকাল রোববার গঠিত কমিটি পর্যালোচনা করবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। কম্পন প্রতিরোধের জন্য সেতু বা উড়াল সেতুতে ইলাস্টোমোরিক বিয়ারিং প্যাড বসানো থাকে। এ প্যাড নিওপ্রেন বা প্রাকৃতিক রাবার দিয়ে তৈরি, যা পিয়ার ও ভায়াডাক্টের সংযোগস্থলে বসানো হয়। কোনোটির ভেতরে কয়েক পরতে থাকে স্টিলের কাঠামো, আর উপরে থাকে রাবার। এগুলো ওজনে অনেক ভারী হয়। তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন বলেন, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনের ফুটপাত দিয়ে এক পথচারী হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই প্যাড পড়ে একটি চায়ের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অপরদিকে, সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে নিহত হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া তার পরিবারে কর্মক্ষম কোনো ব্যক্তি থাকলে তাকে মেট্রোরেলে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল রোববার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারের সব দায়-দায়িত্ব মেট্রোরেল গ্রহণ করবে। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পরে নিহতের পরিবারে যদি কর্মক্ষম সদস্য থাকে তাহলে তাকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়া হবে। আহতদের আমি একটু পরে হাসপাতালে দেখতে যাব এবং তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশরপাটি গ্রামে বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button