যশোরে খাদ্য বান্ধব ডিলার না হয়েও সরকারী প্রতিষ্ঠানের অনকূলে অর্থ জমা দিয়ে চালান নেওয়ার তথ্য ফাঁস

রশীদ বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
# ভোক্তাগন ডিলারকে খুঁজছে #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ খাদ্য বান্ধব ডিলার না হয়েও খাদ্য অধিদপ্তর-খাদ্য বিতরণ- নগদ বিক্রয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ জমা দিয়ে চালান নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ করে খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী পালনে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ভোক্তাগন কয়েকজন ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে চাল নেওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন তিনি বিষয়টি জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে তিনি জানাবেন। তাছাড়া,খাদ্য বান্ধব পুরাতন ডিলারগণকে ডিলার কার্যক্রম থেকে জোর পূর্বক প্রত্যাহার করানোর অভিযোগ উঠেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো অভিযোগ করেছে,যশোর জেলার ১৫টি ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী বাস্তবায়নে তৎকালীন সরকারের আমলে ৩৭জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। এ সব ডিলারগণ সরকার কর্তৃক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী পালনে ভোক্তাগনের মধ্যে মাথা পিছু ৩০ কেটি চাল সাড়ে ৪শ’ টাকার বিনিময়ে দেয়া হয়। খাদ্য বান্ধব ডিলারগণের চুড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা যশোর সদরের ১৫টি ইউনিয়নে বিক্রয় কেন্দ্র নির্দিষ্ট করে ভোক্তাগনের মাঝে চাল বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিগত সরকারের আমলে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৭ জন ডিলার চুড়ান্ত করা হয়। ৩৭জন ডিলার ১৮হাজার ২৯০ জন ভোক্তাদের মাঝে মাথা পিছু ৩০ কেজি চাল বিতরণ করে আসছিল। গত বছরের ৫ আগষ্টের পর তৎকালীন সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে একটি পক্ষ হাইকোর্টে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী পালনে দলীয় করণের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রীট পিটিশন দায়ের এর পর ডিলার গনের কর্মকান্ড স্থবিরতার আদেশ দেন। এর মধ্যে সরকার খাদ্য বান্ধব যাতে কোন ব্যাহত না হয় তার জন্য কর্মসূচী বাস্তবায়নে খাদ্য অফিসসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ভোক্তাদের মাঝে চাল বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। বর্তমান সরকারের নির্দেশে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী পালনে নতুন ডিলার নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি জারীর মাধ্যমে পরে লটারী করে নতুন খাদ্য বান্ধব ডিলার চুড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে পুরাতন ডিলারগন উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করে আদেশ তাদের পক্ষ আশায় তারা পূর্বের ন্যায় উপজেলা খাদ্য অফিসের অনুমতি (ডিও) লেটার নিয়ে সরকারের অনুকূলে টাকা জমা দিয়ে চাল উত্তোলন করে ভোক্তাদের মাঝে বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। হঠাৎ গত মাসে নতুন ডিলার গন উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাদের পক্ষে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী বাস্তবায়নে উপজেলা খাদ্য অফিসসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসের স্মরনাপন্ন হন। সূত্রগুলো বলেছে, কতিপয় একটি চক্র পুরাতন ডিলারগনের কাছ থেকে ডিলার কার্যক্রম প্রত্যাহার করিয়ে ওই ডিলারগনের নামে অফিসের অনুমতি (ডিও) লেটার করে চরকারের অনুকূলে টাকা জমা দিয়ে জেলা খাদ্য গোডাউন থেকে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার ডিও লেটার দেখিয়ে চাল উত্তোলন করে ইচ্ছা খুশি মতো ভোক্তাদের মাঝে বিক্রি করছেন। তাছাড়া,সূত্রগুলো বলেছেন, গত বছরের ৫ আগষ্টের পর থেকে যে সব ডিলার পালিয়ে গেছে। সেই ডিলারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পাশ^বর্তী ডিলারকে ডিও লেটার দিয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী পালন হচ্ছিল। হঠাৎ গত সেপ্টেম্বর মাসে হৈবতপুর ইউনিয়নের পাশর্^বর্তী ডিলার বিজয় কুমার বিশ^াস এর,নওয়াপাড়া ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম এর বাহাদুরপুরে বিক্রয় কেন্দ্র কাগজ কলমে থাকলেও তা দেওয়া হয়েছে বাহাদুরপুরে। এর মধ্যে চলতি মাসে উপশহর ইউনিয়নের সৈয়দ মুনসুর আলম ডিলারের ডিও লেটার পাশ^বর্তী মেসার্স জাহিন এন্টার প্রাইজ এর সত্বাধিকারী জাবের হোসেন জাহিদকে দেওয়ার কথা থাকলেও তার নামে ডিও লেটার চক্রটি তুলে তাদের ইচ্ছা মাফিক রোববার ২৬ অক্টোবর থেকে দেওয়া শুরু করেছে। অথচ এ বছর সৈয়দ মুনসুর আলমের নামে ডিলার পাশ^বর্তী ডিলার জাবের হোসেন জাহিদ দিয়ে আসলেও হঠাৎ তার নামে ডিও লেটার উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে চক্রটি তুলে খাদ্য গোডাউন থেকে চাল উত্তোলন করে নিজের খাম খেয়ালি করে বিক্রয় করছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোক্তাগণ অভিযোগ করেছেন। চলতি অক্টোবর মাসে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী বাস্তবায়নে চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো জানিয়েছেন। সূত্রগুলো আরো বলেছেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাইকে ম্যানেজ করে কতিপয় চক্রটি ডিলার না হয়েও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ভোক্তাদের মাঝে বিক্রিত চাল উত্তোলন করেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মামুন হোসেন খানের সাথে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন উপশহরের সৈয়দ মুনসুর আলমের ডিও লেটার পাশ^র্তী জাবের হোসেন জাহিদকে দেওয়া হয়েছে। জাহিদ ভোক্তাদের মাঝে চাল বিক্রি করবে। তবে তিনি বিষয়টি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে এ প্রতিবেদককে জানানোর কথা বলে তার ব্যক্তিগত মুঠো ফোনের লাইন কেটে দেন। এ রিপোর্টটি ছাড়ার পূর্বে তার জন্য অপেক্ষা করেও তার ফোন পাওয়া যায়নি।



