খুলনায় কমেছে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব শঙ্কা চিকনগুনিয়ায়

কামাল মোস্তফা : গেল বছরের এই সময় খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারণ করে । সে তুলনায় চলতি বছরে স্বস্তিতে রয়েছে খুলনাবাসী। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগির উপস্থিতি কম। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছু রোগি থাকলেও বিভাগের অন্তত ৭ টি জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন কোন রোগি ভর্তি হয়নি। তবে চিকনগুনিয়া নিয়ে শঙ্কার কথা বলছে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। খুলনার বেশ কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগির সংখ্য কম। সেখানে মোট ভর্তি রোগির সংখ্যা ৪৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছে ১১জন। চলতি বছর মোট চিকিৎসা নিয়েছে ৩৮৭ জন। এ ছাড়া শহরের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রয়েছে ২১ জন। এছাড়া নগরীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, বেসরকারি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল, আদ্ব-দ্বীন হাসপাতাল, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে মিলে ভর্তি রয়েছে ২১ জন রোগি। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন কোন রোগি ভর্তি হয়নি। খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও ডেঙ্গুর ফোকাল পার্সন ডা. হোসেন আলি বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগির চাপ কম। সে কারণে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে ডেঙ্গু রোগিদের সুচিকিৎসার স্বার্থে আলাদা ওয়ার্ডের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১০ জেলার হাসপাতালগুলোতেও শনিবার সকাল পর্যন্ত ১৮৪ জন ডেঙ্গু রোগি ভর্তি ছিল। গত বছর এই সময় পর্যন্ত যা ছিল দ্বিগুণ। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৩ জন। সবচেয়ে বেশি রোগি ভর্তি রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিভাগে এ পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। যা গত বছর ছিল ১৭ জন। চলতি বছরের গতকাল পর্যন্ত বিভাগের সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল মিলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৪শত ৫৪ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩ হাজার ২শত ৪৬জন। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কম থাকায় খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মাইকিং ছাড়া তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। তবে মাঝে মধ্যে কর্পোরেশনের মশানিধন টিমকে দেকা গেছে স্পে করতে। কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. করীফ শাম্মিউল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেঞ্জি বিভাগ নগরীতে মশক নিধনের কাজটি করে থাকে। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে আমরা সচেতনার কাজ করছি। চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ কম। তবুও নগরীর পাঁচটি স্পটে আমরা নিরবিচ্ছিন্ন মাইকিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছি। এ ছাড়া লিফলেট বিতরণের মাধ্যমেও ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। তবে চিকনগুনিয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে জনগনকে সচেতন করতে আমরা কাজ করছি।



