স্থানীয় সংবাদ

পাইকারী কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজি করছে শেখ বাড়ির আস্থাভাজন নেতা

# শেখ পরিবারের আস্থাভাজন খুলনা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী সরোয়ারের নেতৃত্বে চলছে সোনাডাঙ্গা পাইকারী কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজি
# অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে স্বীকার করলেও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা
# খোলস পাল্টে বিএনপি’র সাথে সখ্যতা রেখে চলছে তার এ চাঁদাবাজি

স্টাফ রির্পোটার ঃ শেখ পরিবারের আস্তাভাজন আওয়ামী সরকারের দোসর খুলনা বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী সরোয়ারের নেতৃত্বে চলছে খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত বৃহত্তর পাইকারি কাঁচাবাজরে চাঁদাবাজি। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হলেও তিনি করছে ক্ষমতার দাপটে চাঁদাবাজি করছে পাইকারি কাঁচাবাজারে। জুলাই ২৪ পরবর্তি সময়ে খোলস পাল্টে তিনি বিএনপির এক অংশের নেতাদের সাথে সখ্যতা রেখে করছে এ চাঁদাবাজি। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রান্তর থেকে বাজারে আসা ভ্যান, রিক্রা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা দিতে অি বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত বৃহত্তর পাইকারি কাচাঁবাজারে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা মালামাল ক্রয়ের জন্য এখানে আসে। ক্রয়কৃত মালামাল নিয়ে বের হতে ভ্যান, রিক্রা অথবা ইজিবাইক প্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় গরিব দরিদ্র এ সকল ভ্যান রিক্রা ও ইজিবাইক চালকদেরকে। এভাবে প্রতিদিন প্রকাশ্যে হাজার হাজার টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে ট্রাক শ্রমিক্ ইউনিয়নের নামে। আর এ কাজটি করছে খুলনা বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এক সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শেখ পরিবারের আস্তাভাজন হিসাবে পরিচিত কাজী সরোয়ার। জুলাই ২৪’ ছাত্র-জনতা বিপ্লব পরবর্তি সময়ে বিএনপির একটি অংশের সাথে মিশে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা কাজী সরোয়ার নিজের খোলস পাল্টে নিজেকে বিএনপি মতাদর্শের কর্মী হিসাবে জাহির করার চেষ্টা করে এ চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত খুলনার বৃহত্তর পাইকারি কাঁচাবাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতশত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কাঁচামাল তরিতরকারি ক্রয় করে ছোট যানবাহন ভ্যান রিক্রা অথবা ইজিবাইকে করে তাদের গন্তব্য স্থানে নিয়ে যেতে। মালামাল পরিবহনকারী প্রতিটি রিক্রাা, ভ্যান এবং ইজিবাইককে প্রবেশদার পার হতেই গুনতে হয় ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। ভ্যান চালক আব্দুর রহিমের জানায়, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতিটি ভ্যান রিক্রা ও ইজিবাইক প্রতি চাঁদা দিতে হচ্ছে। ভ্যান বা যে কোন পরিবহন নিয়ে ঢুকতে এবং বের হতে তাদেরকে দিতে হচ্ছে ১০টাক করে চাঁদা। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ৫/৬ জন প্রতিটি গাড়ী থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা তুলছে। চাঁদা দিতে অস্বিকার করলে আদায়কারীদের হাতে লাঞ্চিত হতে হয়। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি বাবলু খলিফা ভ্যান, রিক্রা ও ইজিবাইক প্রতি টাকা তোলার কথা স্বিকার করলেও তিনি জানান, যে টাকা তোলা হচ্ছে সেটা বাজারের যারা শৃংখলা বা গাড়ী পার্কিং এর দেখা শুনার কাজ করছে তারা টাকা ভাগ করে নেয়। এই টাকা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে যায় না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত খুলনা বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী সরোয়ার বলেন, বাজার কমিটির এবং আমরা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এটা দেখভাল করি। বাজার কমিটির ওনাদের ৩জন এবং টার্মিনালের জন্য আমাদের ৩জন মোট ৬জন মিলে উঠায়। এটা বাজার মেনটেনেন্স এর কাজে তারা খায় আমাদেরকে কোন টাকা দেওয়া হয়না। এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন জানায় এ ধরনের একটি ম্যাসেচ আমরা এর আগে পেয়েছিলাম আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তার অফিস থেকে এ ধরনের কিছু হয় কিনা। ম্যাসেজ পাওয়ার পরপরই আমরা ঐ সময় অভিযান চালিয়েছিলাম কিন্তু ঐ সময়ে আমাদের চোখে এমন কিছু পড়েনি। আমাদের অভিযান মাঝে মধ্যে চালানো হয় যদি এমন কিছু পাওয়া যায় তবে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button