স্থানীয় সংবাদ

ডুমুরিয়ায় এক অসহায় নারীকে মারপিট ও হুমকী : থানায় জিডি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ডুমুরিয়া উপজেলার খরসন্ডা গ্রামে প্রতিবেশী কর্তৃক ময়না বেগম নামে এক অসহায় নারীকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর ডুমুরিয়া থানায় একটি জিডি করেছেন ভুক্তভোগী ময়না বেগম। অসহায় ময়না বেগমকে ওই গ্রাম থেকে তাড়ানোর জন্য বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হুমকী দেওয়া হচ্ছে। যার কারনে সে এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। থানায় দায়েরকৃত জিডি সূত্রে জানা গেছে, খরসন্ডা গ্রামের মৃত মোশারেফ মোড়লের ছেলে সেলিম মোড়ল (৪০) ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) এর সাথে মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে ময়না বেগমের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই জের ধরে তারা ময়নাকে হুমকি দিয়ে আসতো। গত ১৫ অক্টোবর সকাল ৭টায় ময়না বেগমের ছাগল তাদের বাড়ীতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তখন ময়না তাদের কাছে গালিগালাজের কারন জানতে চাইলে সেলিম ক্ষিপ্ত হয়ে মেহগনি গাছের লাঠি নিয়ে এসে ময়নার শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাথাড়ীভাবে মারপিট করে নিলা ফোলা জখম করে। এরপর জাহানারা বাশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তারা তার ঘরের টিন খুলে ফেলে দিয়ে ৩ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং তাকে জীবননাশসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভিতি ও হুমকি দেয়। আহত অবস্থায় ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। ভুক্তভোগী ময়না বেগম আরও অভিযোগ করে বলেন, আমি ২১ বছর যাবৎ নানা বাড়িতে বসবাস করি। নানী অসুস্থ ছিলো মামারা নানীকে দেখত না সেভাবে। নানীর সেবাযতœ করতাম। নানী অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে সে মারা যান। নানী বেচে থাকতে আমাকে কেউ কিছু বলত না। নানী মারা গেলে আমার উপর অনেকে অত্যাচার শুরু করে। একটু কারেন্টও দেয়না। এভাবে আমার জীবনযাপন। আমার দুইটা ছেলে-মেয়ে। আমি দুই শতক জমিতে বসবাস করি। ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে আমার দাবি আমি যেন এখানে শান্তি মত বসবাস করতে পারি। এবিষয়ে ডুমুরিয়া থানার এ এস আই জাহাঙ্গীর জানান, মারধরের ঘটনায় ময়না বেগম থানায় একটি জিডি করেছেন। সেটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত থেকে নির্দেশনা আসলেই তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, বাদী অভিযুক্তকে আত্মীয়ের পরিচয় না দিলেও এএসআই জাহাঙ্গীর বলছেন সে তার চাচাতো মামা। এজন্য তিনি আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই আদালতের উপর দোষ চাপিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button