স্থানীয় সংবাদ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খুলনা চেম্বারের নির্বাচন চায় ব্যবসায়ী সমাজ

# বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট চিঠি প্রেরণ
# ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে বিভক্তি, নির্বাচন কমিশন গঠনে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা কারনে #

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন করার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট খুলনা অঞ্চলের জোট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার পক্ষ থেকে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় ক্ষুদ্র কুটির শিল্প অব বাংলাদেশ (নাসিব) এর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মিজানুর রহমানের পক্ষ থেকে ঢাকা বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে পরিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন, তা এখনো সৃষ্টি হয়নি। ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে বিভক্তি, নির্বাচন কমিশন গঠনে স্বচ্ছতার ঘাটতি, সদস্য তালিকা হালনাগাদ না থাকা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই মুহুর্তে নির্বাচন হলে ব্যবসায়ী মহলে অস্থিরতা ও বিভেদ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের সময় খুলনার ব্যবসায়ীদের হৃদয়ের স্পন্দন খুলনা চেম্বার অব কমার্স একটি পরিবারের আর্শীবাদপুষ্টদের কাছে জিম্মি ছিল যাতে করে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সময় খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি মূলত একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের পরিণত হয়েছিল। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পরে ব্যবসায়ীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছিল গণতান্ত্রিক পরিবেশে চেম্বারের প্রতিনিধি নির্বাচন করার যার পরিবেশ এখনো তৈরী হয়নি। সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোটে প্রকৃত ব্যবসায়ী নেতা নির্বাচনে দরকার একটি স্বচ্ছন্দ পরিবেশ। কিন্তু ইতিমধ্যে সারাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল বেজে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ ও নির্বাচনী কর্মকা- করে চলায় খুলনার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা জাতীয় নির্বাচনের পরে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যারা এখন ক্ষমতায় রয়েছে তারা একটি অশুভ শক্তির ইশারায় বিভিন্ন দফতরের জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে চেম্বার নির্বাচনের দাবি তুলছে। দেশবাসী দৃষ্টি যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে ঠিক সেই মুহুর্তে কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তড়িঘড়ি করে দায়সারা নির্বাচন করতে চাচ্ছে সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। এতে আরও বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের পরে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন হলে খুলনা চেম্বারের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে আমরা আশা করছি। আমরা চাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময় ফ্যাসিবাদ মুক্ত বৈষম্যহীন খুলনা চেম্বার অব কমার্স প্রকৃত ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরিচালিত হোক। তাছাড়া, সাম্প্রতিক আমদানি রপ্তানি সংকট, ডলার সংকট ও সার্বিক অর্থনৈতিক চাপে খুলনা অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখন স্থিতিশীলতা ও সমন্বয়ের সময় প্রত্যাশা করছেন, বিরোধ নয়। এই অবস্থায় দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে প্রশাসকের অধীনে আরও কিছু সময় চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করাই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমরা মনে করি। আমরা মনে করি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা খুলনা চেম্বারের নিয়ন্ত্রণ করেছেন তারাই নির্বাচনের কলকাঠি নাড়াচ্ছেন যাতে করে পতিত সরকারের লোকজন চেম্বারের দায়িত্বে আসেন। যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুলনা প্রেসক্লাব, খুলনা ক্লাব, খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা, খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের নির্বাচন হচ্ছে না। সেহেতু চেম্বারের নির্বাচনও করা মোটেই যুক্তিসঙ্গত হবে না। আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধানে চেম্বারের সাংগঠনিক স্থিতি আরও শক্তিশালী হবে, সদস্য তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে প্রস্তুত করা যাবে। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময় ও প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে তা হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। উল্লেখ্য গত ২৮ আগস্ট খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসকের দায়িত্বকাল কিছুটা বৃদ্ধি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button