স্থানীয় সংবাদ

গ্রেফতাকৃদের রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ

# দৌলতপুরে দু’ বাড়িতে গুলি #
# মাদকের আধিপত্য বিস্তারে এ গুলি ঃ পুলিশ #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর দৌলতপুরে দু’ বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ওসমান নামের একজন রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এলাকার মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা স্বীকার করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত ওসমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয় আদালত ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অসুস্থ থাকায় অপর আসামী সেলিমকে চিকিৎসা শেষে শুক্রবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তিনি বলেন, এলাকার মাদক বিক্রির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ী কানা মেহেদীকে ভয় দেয়ার জন্য এ গুলি করা হয়। মেহেদীর বাড়ি ঘর সব খালিশপুরে মহেশ্বরপাশা ঘোষপাড়ায় বিল ডাকাতিয়ার মধ্যে বাড়ি ক্রয় করে চারপাশে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে সুরক্ষিত থাকে মেহেদী। মেহেদী ওই এলাকায় এসে নতুন করে মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কিন্ত ওই এলাকার পুরানো মাদক ব্যবসায়ীরা তা মানতে নারাজ তাই মেহেদী কে ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার পরিকল্পনা করেছে তারা। জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান এমনই তথ্য দিয়েছে বলে তিনি জানান। তবে কানা মেহেদীর ভাই শেরেগুল থাকেন কাশিপুরে। তিনি খুলনাঞ্চলের বড় মাপের মাদ ব্যবসায়ী বলে এলঅকাবাসী জানান। এদিকে মেহেদীর স্ত্রী ইসরাত জাহান ববি বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো ওসমান ও সেলিম। এ দু’জনের বিরুদ্ধে আড়ংঘাটা থানায় চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানানয়। দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ছয় রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। একই রাতে মেহেদীর বাড়িতেও নয় রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি আরও বলেন, এখনো কারা এই হামলায় জড়িত তা শনাক্ত করা যায়নি। নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চরমপন্থিদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এলাকায় নতুন করে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় সহিংসতা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত ১১ জুলাই নিজ বাড়ির সামনে যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পুলিশ তদন্তে চরমপন্থি দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত পেলেও মূল আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকা-ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, কানা মেহেদি হলো কাশীপুর বিএল কলেজ রোডের মাদক ব্যবসায়ী শেরেগুলের ভাই। সে একজন বড় মাপের মাদক কারবারী। ওই এলাকার স্থানীয়রা জানান যে, কাশিপুরের শেরেগুল খুলনার মাদক সাম্রাজ্যের মাফিয়া ডন। তার নিজস্ব একটি মাদক পাচারের কিশোরগাং বাহিনী রয়েছে। এরপর ৩ আগস্ট রাতে বণিকপাড়া খানাবাড়ি এলাকায় ঘের ব্যবসায়ী আল আমিনকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে তার মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে দৌলতপুর মহেশ্বরপাশার পশ্চিমপাড়া শাহী জামে মসজিদ এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান শুভ (২৮) নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। পরদিন ১ অক্টোবর ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা আবুল বাশার জানান, শুভর কোনো শত্রু ছিল না। তবুও দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দৌলতপুর থানার এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শেরেগুল, টিপু ,হীরক, মেহেদী, রেখাসহ আলোচিত মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, শুভ হত্যা মামলাসহ সাম্প্রতিক সব ঘটনাই তদন্তাধীন, এবং আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানায় যে, মহেশ্বরপাশা, ফুলবাড়িগেট রেখা, রেলিগেট, দেয়ানা, পাবলা,কাশিপুর মোড়,চুনের বটতলা,কবীর বটতলা,পাবলা তিন দোকানের মোড়,দেয়ানা পাখির মোড়,দেয়ানা দক্ষিণপাড়া মোড়, দেয়ানা যশোরের মোড়, দৌলতপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকাগুলোতে যারা মাদক ব্যবসায়ী তারাই অস্ত্র ব্যবসা করে বলে জানান। ক্রমাগত গুলি, হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অভিজ্ঞমহল মনে করেন, প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দৌলতপুর ও আশপাশের এলাকাগুলো আবারও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।
ন্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button