রূপসায় চাঞ্চল্যকর মানিক হত্যা মামলার মাস্টার মাইন্ডখ্যাত মাসুম জেলহাজতে

তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে এলাকার মানুষ আতংকে
স্টাফ রিপোর্টার : রূপসায় চাঞ্চল্যকর ইমরান হোসেন মানিক হত্যা মামলার হুকুমের আসামি আওয়ামীলীগের সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের শেল্টারে বেড়ে ওঠা ও রূপসায় ক্রসফায়ারে নিহত মিনা কামাল ওরফে ফাটাকেষ্ট’র ভাই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাস্টার মাইন্ড মাসুম বিল্লাহকে অবশেষে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।
আসামি মাসুম বিল্লাহ উচ্চ আদালতের আদেশ মোতাবেক ৬ সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে রোববার (২ নভেম্বর) খুলনার জেলা জজ আদালতে আতœসমর্পণ করেন। পরে জেলা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজী জামিন না মঞ্জুর পূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন বলে আদালত সুত্রে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. আকরামুল হক বলেন, মানিক হত্যা মামলার আসামী মাসুম বিল্লাহ উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২ নভেম্বর খুলনা জেলা জজ আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। আগামী ১২ নভেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য্য রয়েছে।
এদিকে, আসামি মাসুম বিল্লাহ জেলহাজতে গেলে এলাকায় স্বস্তির নিশ্বাস ফিরলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে এলাকার মানুষ রয়েছে আতংকে।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামস্থ জয়পুর এয়ারটেল টাওয়ারের পাশে জনৈক রেজাউল মাস্টারের বাড়ির উত্তর পাশে রাস্তার উপর সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইমরান হোসেন মানিককে পিস্তল দিয়ে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে ৬ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মো. মাসুদ হাওলাদার বাদী হয়ে কিবরিয়া ও মাসুম বিল্লাহ সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে রূপসা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোরে র্যাব-৬ পূর্ব রূপসার বাগমারা এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিন্ডলসহ মাস্টার মাইন্ড মাসুমকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে মাসুমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এই মাসুম বিল্লাহ ফাঁটাকেষ্ট মিনা কামালের থেকেও বেপরোয়া।
পূর্বে মিনা কামাল ও তার ভাই মাসুম বিল্লাহ আওয়ামীলীগের তৎকালীন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। মিনা কামাল ক্রসফায়ারে নিহতের পর তার অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার কিবরিয়া ও মাসুম বিল্লাহ’র কাছে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ৯০’র দশকে রামপালের ফয়লায় রেনু পোনার বাস ডাকাতির মাষ্টার মাইন্ড ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। ওই সময় বাস ডাকাতিকালে ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় মাসুমের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। প্রায় ২০ বছর আগে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রূপসার আক্তার হোসেন খানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার মুলহোতাও ছিলেন এই মাসুম। এ ঘটনায় মামলাও হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের অবৈধ ক্ষমতার দাপটে মাসুম ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তবে, আওয়ামী লীগের পতনের পর সে রাতারাতি ভোল পাল্টিয়ে শ্রমিকদলে নাম লিখিয়ে তার সকল অপরাধ বৈধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।



