স্থানীয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান

# বাসদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে নেতৃবৃন্দ #

খবর বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে দলটির খুলনা জেলা কমিটির উদ্যোগে ২১ নভেম্বর ২০২৫ বেলা ৩:৩০টায় দৌলতপুর শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ এবং একটি সুসজ্জিত লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ খুলনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নান্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও বাম গণতান্ত্রিক জোট খুুনা জেলা সমন্বয়ক কোহিনুর আক্তার কনা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শহীদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, সহ-সভাপতি নুরু পাটোয়ারী, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট খুলনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক প্রলয় মজুমদার, সদস্য সচিব রবিন ম-ল, প্রগতিশীল আইনজীবী ফ্রন্টের সংগঠক সনজিত মন্ডল, বাসদ খালিশপুর থানা আহ্বায়ক ইউনুস আহমেদ মাসুদ, সদস্য খাদিজা আক্তার, কুলসুম বেগম, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, ব্যাটারী রিকশা সংগ্রাম পরিষদ খালিশপুর থানা সংগঠক নুর আলম, সদর থানা সংগঠক আব্দুল আলিম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট খুলনা জেলা সদস্য তনয় রায় প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা শোষণমুক্ত সমাজ তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাসদ শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অবিচলভাবে কাজ করছে। এদেশের জনগণ দেখছে স্বাধীনতার পর সময় যত পেরোচ্ছে বৈষম্যও ততই বেড়ে চলেছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জনগণ বারে বারে গণবিরোধী স্বৈরাচারী সরকার হটিয়েছে, অভ্যুত্থান করেছে। কিন্তু সঠিক নেতৃত্বের অভাবে আন্দোলনের সুফল ঘরে তুলতে না পেরে বার বার প্রতারিত হয়েছে। ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক, জনতা রক্ত দিয়ে যে স্বৈরাচারী সরকারকে হটালো, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তারাও গণমানুষের স্বার্থের বদলে সংস্কার, আদেশ, গণভোট ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময়ক্ষেপণ করছে। শ্রমিকের চাকরি, মজুরি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বেকারত্ব দূর, প্রবাসীদের যন্ত্রণা লাঘব, ছাত্রদের শিক্ষার খরচ কমানো, ওষুধের দাম ও চিকিৎসা ব্যয় কমানো, নারী লাঞ্ছনা-অপমান ও নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লুটপাট, দুর্নীতি, দুঃশাসন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিন্তু জনগণের আকাক্সক্ষা ছিল বৈষম্য থেকে মুক্তি, বিশেষ করে দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির হাত থেকে মুক্তি; আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জনগণের জীবন জীবিকার নিশ্চয়তা, হত্যাকা-ের বিচার এবং সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। কিন্তু পুঁজিবাদী পথে ব্যুর্জোয়া শাসন-শোষণে, সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৫৪ বছর ধরে শাসকগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করে চলেছে। ’২৪-এর অভ্যুত্থানের পরও বৈষম্যবিরোধী চেতনার বিপরীতেই দেশ পরিচালিত হচ্ছে। একদিকে চলছে দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজী, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরসহ তিনটি বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে, কয়েকটি টার্মিনাল ইতোমধ্যে বিদেশি কোম্পানির কাছে লীজ দেয়া হয়েছে। কথিত মানবিক করিডোর, অস্ত্র কারখানা, স্টার লিংককে আকাশ সেটেলাইট দেয়া ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকীতে ফেলে দিচ্ছে। অতীতের মতোই সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে মার্কিনের সাথে গোপন চুক্তি করে জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। এতে বেশি দামে গম, তুলা, সয়াবিন, এলএনজি এবং উড়োজাহাজ আমেরিকা থেকে কিনতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হলেও সম্প্রতি সময় নির্বাচন বানচালের নানামুখী ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুনাখুনিসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতি ঘটছে। নির্বাচন বানচালের যে কোন ষড়যন্ত্র দেশকে আরও ভয়ানক সংকটে ঠেলে দিবে। নেতৃবৃন্দ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে দ্রুত সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় মাকিকানায় চালু, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলসহ ৫ মিলের সকল শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ, বিআরটিএ’র মাধ্যমে নীতিমালা করে ব্যাটারীচালিত রিকশার লাইসেন্স দেয়া, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ পুঁজিবাদী শোষণ, সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন ও সাম্প্রদায়িক আস্ফালনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল নীতিনিষ্ঠভাবে শোষণমুক্তি তথা বৈষম্য বিলোপের জন্য প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগ্রাম করছে। নেতৃবৃন্দ অতীতের সংগ্রামের সফলতা-ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে গণবিপ্লব সফল করে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকল শ্রমজীবী শোষিত জনতাকে বিপ্লবী দল বাসদের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button