স্থানীয় সংবাদ

যশোরে যবিপ্রবির জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ

যশোর ব্যুরো ঃ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন সাজিয়ালী মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অভিযোগ তোলেন। সাংবাদ সম্মেলনে কৃষক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
তিনি তার লিখিত বক্তব্য বলেন,২০০৫ সালে যবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের সময় কেউ জমি দিতে রাজি ছিলেন না। পরে প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে ভবিষ্যতে জমির প্রয়োজন হলে বাজারদর অনুযায়ী মূল্য দেয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখেই তারা মাত্র ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রতি বিঘা মূল্যে জমি দেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই জায়গায় সম্প্রসারণ না করে ১ কিলোমিটার দূরের বিলাঞ্চলে নতুন জমি নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন,অনলাইন ভিসি, শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সাজিয়ালী মৌজার সরকারি খাল পর্যন্ত জমিকে সম্প্রসারণের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেছিলেন। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন স্থানের দিকে ঝুঁকছে, যা কৃষকদের সঙ্গে ’প্রতারণার শামিল’।
কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, নতুন জায়গায় গেলে সরকারকে সড়ক, বিদ্যুৎলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঝুঁকিও বাড়বে, যেমনটি আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে কৃষকরা জানান, ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্জ্য ও নোংরা পানির কারণে সাজিয়ালী মৌজার ১২০–১৫০ বিঘা কৃষিজমি নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সাজিয়ালী মৌজার সরকারি খাল পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের ঘোষণা,ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং নতুন স্থানে জমি নেওয়ার প্রচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান। তাদের অভিযোগÍবিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের নামে একটি কুচক্রী মহল লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে, যা কৃষকদের প্রতি চরম অবিচার।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button