টাকা, পেশীশক্তি, ভয়ের পরিবেশ, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা ও প্রশাসনিক কারসাজি মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করুন

# খুলনায় রুহিন হোসেন প্রিন্স #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৬ নভেম্বর বিকেলে খুলনার ধর্মসভা, সেমেট্রি রোড, শান্তিরধাম মোড়, সাত রাস্তা মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত গণসংযোগে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, এই মুহূর্তে দেশের মানুষ ঘোষিত সময়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চায়। মানুষ চায় নির্ভয়ে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। এর জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশের নিশ্চয়তা চায়। মানুষ দেখতে চায় ভোটের তারিখ ঘোষিত হওয়ার পর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটসম্পন্ন হওয়ার পরে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। এজন্য প্রয়োজন অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ভোটের পরিবেশ তৈরি করা। ভোটে দাঁড়ানো ও ভোট দেওয়ার সমান অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশের একাংশ মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্ক করার চেষ্টা করছেন। মব সন্ত্রাস করে দেশের নতুন করে ভয়ের রাজত্ব তৈরি করছে। তিনি খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময় যেভাবে খুলনায় হত্যা লুটতরাজ সংঘটিত হয়েছে তা নজিরবিহীন। তিনি এই অবস্থা অবসানে খুলনার প্রশাসনকে নির্মহভাবে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে না পারলে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাও সংকটের মধ্যে পড়বে। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এবারে নির্বাচনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মের ব্যবহার। যা চলছে অবাধে। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষত এ আই এর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, অপতথ্য ছড়ানো ও তার মোকাবেলা হবে অন্যতম সমস্যা। তিনি বলেন, এবারে নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং আইনি খরচের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। টাকা নেই এমন ভালো, যোগ্য মানুষ নির্বাচন করবেন কিভাবে ? তিনি এই সিদ্ধান্ত বদল করে নির্বাচনের প্রচার প্রপাগা-ার সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে নির্বাচনের সকলের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কথা বলা হয়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ঘোষিত হওয়ার পর এ বিষয়ে কিছুটা হয়তো দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু এখনই চারিদিকে তাকিয়ে দেখুন আচরণবিধি বলে কোনো জিনিস নেই। যার যার মত প্রচার ও প্রপাগা-া যেভাবে করছে তা কোনোভাবেই আচরণবিধির সাথে যায় না। ৩৬৫ দিনই নির্বাচন কমিশনকে দেখতে হবে কার আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। একই সাথে নির্বাচনকে টাকার খেলা, পেশীশক্তি ভয়ের পরিবেশ, সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা ও প্রশাসনিক কারসাজিমুক্ত করতে হবে। তিনি সরকারকে এবং নির্বাচন কমিশনকে এ দায়িত্ব পালনে দৃশ্যমান ভূমিকার পালনের আহ্বান জানান। তিনি খুলনার মানুষকে নিরব খুলনাকে সরব করার জন্য এবং গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহবান জানান। গণসংযোগে সিপিবি’র খুলনা মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদৎ, সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ ঢালী, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নিত্যানন্দ ঢালী, জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মহানগর সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, সদর থানা সভাপতি কমরেড তোফাজ্জেল হোসেন, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, টিইউসি নেতা রঙ্গলাল মৃধা, যুবনেতা নাহিদ হাসান, ছাত্র নেতা সুদীপ্ত রায়, তনুশ্রী, ওয়াহিদুজ্জামান, ওয়াহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



