কিংবদন্তী সাংবাদিক লিয়াকত আলীর ১০ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ আজ ২৮ নভেম্বর, কিংবদন্তী সাংবাদিক, উন্নয়ন পরিচিন্তক, সংগঠক, সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব দৈনিক পূর্বাঞ্চল সম্পাদক আলহাজ লিয়াকত আলীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে আকস্মিকভাবে তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি কয়েকদিন জ¦রে ভুগছিলেন। সাংবাদিকতায় এবং বিশেষ করে সম্পাদক হিসেবে তিনি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম জগত ছাড়াও নানাক্ষেত্রে সুপরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের বেশি সাংবাদিকতা ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি পেশাগত উৎকর্ষে নিজে কঠোর পরিশ্রম করেন। যুগ ও সময়ের সাথে সঙ্গতি সাধনে আধুনিকতা ও প্রযুক্তিকে তিনি সবসময় স্বাগত জানিয়ে তা গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই প্রগতিশীল মনোভাব ও স্বীয় পরিশ্রমের ফসল দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকাটিকে তিনি আঞ্চলিক পত্রিকার জনপ্রিয়তার শীর্ষ নিয়ে যেতে সক্ষম হন। দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকা প্রকাশনার ক্ষেত্রে অপরিসীম অবদানের ফলে সংবাদপত্র প্রকাশনা জগতে পত্রিকাটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে সর্বজন স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি পূর্বাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদকের পদমর্যাদা ছাপিয়ে পেশাগত জ্ঞানে অনেকের কাছেই পেশায় ছিলেন শিক্ষকতুল্য এবং অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। সাংবাদিকদের প্লাটফরমকে শক্তিশালী করতে, খুলনা বিভাগের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাব গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা। তিনি ঢাকা থেকে দৈনিক জনবাণী, খুলনা বিভাগের অন্যতম ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি ট্রিবিউন পত্রিকা প্রকাশ করেন। জীবনে ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে তিনি নিজস্ব মেধা ও পরিশ্রমে সাফল্য পান সংবাদপত্রসহ বেশ কিছু অঙ্গনে। দেশ ছাড়িয়ে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেলেও কখনও তিনি একাধারে ৬মাস সেখানে থাকেননি। ফিরে এসেছেন মাটির টানে। নাড়ীর বাঁধন তিনি ভোলেননি। পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মীদের সাথে সদ্ব্যাহার ছাড়াও তিনি শিশুদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত ¯েœহবৎসাল। কঠোর-কমলতার মিশেলে তিনি ছিলেন অমায়িক ব্যক্তিত্ব। বৃহত্তর খুলনা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনমানুষের সমস্যা তুলে ধরে তিনি সমাধানের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন পত্রিকার মাধ্যমে। খুলনার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম একজন সংগঠক, রূপকার। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ, ওয়াসা স্থাপনের দাবি, রূপসা সেতু, আধুনিক রেল স্টেশন, বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর নির্মাণের দাবিসহ খুলনার উন্নয়নের প্রধানতম ইস্যুগুলো তুলে ধরে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করানোর ব্যাপারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। খুলনার খালিশপুরের শিল্পাঞ্চলের সমস্যা, শ্রমিকদের বঞ্চনার বিষয়টিতেও তাঁর চোখ এড়িয়ে যায়নি। তাদের দাবির প্রতি ছিলেন সহানুভ’তিশীল। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির ব্যানারে খুলনার অন্যতম সমস্যা সমাধান, উন্নয়ন সম্বলিত দাবি নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঢাকায় এবং খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে একটেবিলে বসানোর ব্যাপারে অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর সদাহাস্য সম্মোহনী মুখাবয়ব, প্রাজ্ঞসর ভাবনা এবং বহুমুখী অভিজ্ঞতার কারণে জাতীয় পর্যায়ে তিনি অনেক ক্ষেত্রে সুপরিচিত ছিলেন। সম্পাদক পরিষদ, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাংবাদিক ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন, সমবায় আন্দোলন ও সমবায় ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রদান ও নির্বাচিত হন। এছাড়াও নানা ক্ষেত্র ও গ-িতে তিনি সম্যক জ্ঞানের অধিকারী থাকায় প্রতিনিধিত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করার সুযোগে তিনি বিশ্বজনীন জ্ঞান ও অগ্রসর চিন্তার ক্ষেত্রে অসাধারণ বুৎপত্তি লাভ করেন। একজন সুবক্তা হিসেবেও তিনি সুবিদিত ছিলেন। খুলনার উন্নয়নে আজও তাঁর শূন্যতার জায়গাটি রয়ে গেছে অপূরণীয়। নানা সংকটে, উদ্যোগের অভাবে, বলিষ্ঠ ভূমিকার আভাবে কথা মনে হলেই লিয়াকত আলীর নাম প্রাসঙ্গিকভাবেই উঠে আসে। তাঁর অনুপস্থিতি অনুভূত হয়। আলহাজ লিয়াকত আলী ১৯৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন, আর ২০১৫সালের ২৮ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে অবসান ঘটে তাঁর কর্মমমুখর বর্ণাঢ্য জীবন ও দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র পুরুষের। ২৮ নভেম্বর তাঁর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইকবাল নগর জামে মসজিদে বাদ আছর দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ইকবালনগরসহ কয়েকটি মাদ্রাসায় এতিমদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
