স্থানীয় সংবাদ

খুলনার আদালত পাড়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে দু’জনকে হত্যা

নিহতরা পলাশ বাহিনীর সদস্য
ছিলেন অস্ত্রসহ ছয় মামলার আসামি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনার আদালত পাড়ায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে ফজলে রাব্বি রাজন (২৮) ও হাসিব হাওলাদার (২৯) নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হয়ে ফেরার পথে তাদেরকে হত্যা করা হয়। এ সময় রুম্মান (৩০) নামে একজন আহত হয়। নিহতরা সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ ছয়টি করে মামলা রয়েছে।
এদিকে, প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ডাবল মার্ডারের এ ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হত্যা মিশন সম্পন্ন করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘেœ স্থান ত্যাগ করায় আদালত পাড়ার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতরা আদালতে হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার পর প্রধান ফটকের কাছে মেইন সড়কে দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই হাসিব মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে হাসিব নগরীর নতুন বাজার লঞ্চঘাট এলাকার মান্নাফের পুত্র এবং ফজলে রাব্বি রাজন রুপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের আব্দুর রবের মোড় এলাকার এজাজ শেখের পুত্র। এছাড়া আহত রুম্মান নগরীর লবণচরা পুটিমারি এলাকার আক্তার গাজীর পুত্র। আহত অবস্থায় রুম্মান খুলনা মেডিকেলের সার্জারি ২ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩১ মার্চ নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মেইন সড়কে আগে থেকে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা তাদেরকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে স্থান ত্যাগ করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম নিহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুজনই স্থানীয় অপরাধ জগতে পরিচিত এবং বিভিন্ন মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। হামলার সময় আদালতের নিরাপত্তা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে। প্রশাসন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা সদর জোন) শিহাব করিম বলেন, হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, “নিহত দুইজনের নামেই হত্যা, অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোট ছয়টি করে মামলা রয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে এখনো আমরা। সিসিটিভি’র ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতরা ‘সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপে’র সহযোগী। তারা দুজনই আড়াই মাস আগে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়েছিলেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত.ম. রোকনুজ্জামান বলেন, নিহতরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য। গত মার্চ মাসে যৌথ বাহিনীর হাতে তারা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। পরবর্তীতে কারাগার থেকে জামিনে বের হয় এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছিল। প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই তাদের হাজিরার দিন জেনে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজ এবং মোটরসাইকেলের বিভিন্ন চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button