জাতীয় সংবাদ

আমি খুলনা জেলায় এনসিপিকে সংগঠিত করেছি : বাপ্পী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে আসন্ন নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর জনপদ। তবে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন এনসিপির তরুণ প্রার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সাজেদুল ইসলাম বাপ্পি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন তার রাজনৈতিক দর্শন, এলাকার সমস্যা এবং সমাধানের রূপরেখা। আমি সাজেদুল ইসলাম বাপ্পি। খুলনা ৬ আসনে এনসিপির এমপি প্রার্থী) বর্তমানে খুলনায় এনসিপি’র কমিটি হয়নি আমি খুলনা জেলায় এনসিপি’কে সংগঠিত করছি আমি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটিতে ছিলাম। এরপর খুলনা জেলার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।
আমি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন পেছনের সারির যাত্রী। এরপরে ছাত্র অধিকার পরিষদে যুক্ত হইলাম। খুলনা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ছিলাম। এরপর নানান ঘটনাপ্রবাহে একপর্যায়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করি। এবং তার পরবর্তী সময়ে দেশের জন্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুক্ত হওয়া। আর দেখেন, আমরা যখন খুলনার রাজপথে আমরা যখন আন্দোলন সংগ্রাম করছি, আমরা যখন রাজপথে নেমেছি, আমরা আসলে এখন আমার বলতে কোন দ্বিধা নাই, আমি এই শিববাড়ী মোড়ে এতো বড় একটা জায়গা ১৫/ ২০ জন নিয়ে আমি রাজপথে নেমেছি। আমরা সেই ১৮’র পরবর্তী সময় থেকে যখন শেখ হাসিনার দানবীয় কায়দায় তার শোষণ, নিপীড়ন, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল তখন থেকে আমরা যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম এবং প্রতিবাদের অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের প্রতিবাদকে জারি রেখেছি। এবং সেখান থেকে আপনার প্রায় প্রতিটা আন্দোলন এই নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, এরপর আপনার ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন, এরপর এই যে যে ১৮ সালের একটি নির্বাচন, ২৪ এর নির্বাচন, তার মধ্যে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হইলো। যে সময়গুলোতে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না বা যে সময়গুলোতে শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ অত্যাচার, নির্যাতন করতো সেই সময়গুলোতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো প্রতিবাদ জারি রেখেছি এবং এই ১৫-২০ জন, ৩০ জন, ৫০ জন, ১০০ জন নিয়ে চলতে চলতে তখন মানুষ আমাদেরকে আবার একটু স্মৃতিচারণ করতে হয় যে ওই টাইমে মানুষ আমাদেরকে হাসি ঠাট্টা করতো, যে এই ২০ জন নিয়ে আন্দোলন করতেছে এরা কি করবে? অনেকেই হাসি ঠাট্টা করতো। আমরাও মাঝে মাঝে হতাশ হইতাম। কিন্তু আমরা কখনো আশা হারাইনি। আমরা কখনো মনোবল হারাইনি। আমরা সবসময় ভেবেছি যে সত্য কথা বলতে আসলে হাজার জনের প্রয়োজন নাই। যদি ২০ জনও সত্য কথা বলে। আমরা যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনও শুরু শুরু করছিলাম এই ২৪’এর জুলাইয়ে তখনও কিন্তু খুব বেশি মানুষ কিন্তু শুরুর দিকে আমাদের সাথে ছিল না। এরপর ধীরে ধীরে আমরা এভাবেই আমরা এগিয়ে এগিয়ে চলছি। শেখ হাসিনার প্রতিটা অন্যায়, অত্যাচার, অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে সোচ্চার ছিলাম। সেটা খুলনার মানুষ জানে। সেটা আপনারা জানেন। আপনারাই সেটা দেশবাসীকে জানিয়ে তুলেছেন এবং আপনারাই আমাদেরকে সাহস জুগিয়েছেন।দেখুন, আমার পাইকগাছা এবং কয়রা এমন একটি এলাকা যেটা আসলে শহর থেকে বেশ দূরে হওয়ায় আমার এলাকার মানুষের আর্তনাদ এই শহরবাসীর কানে কিন্তু পৌঁছায় না। এবং গত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি আমার এলাকা থেকে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, যারা আমার এলাকা থেকে নির্বাচন করেছে তারা কেউ কিন্তু কথা রাখে নাই। সবাই আমার এলাকার মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। দেখেন, দেশ যেখানে এতদূর এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ যেখানে আজকে বহুদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে আমার এলাকার মানুষ শুনতে অত্যন্ত খারাপ লাগবে। তারপরও এটাই বাস্তব, এটাই সত্য। আমার এলাকার অনেক মানুষ, বহু মানুষ এখনো পুকুরের পানি খেয়ে তারা আর কি দিনাতিপাত করে। দেশ যেখানে এতদূর এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমার এলাকার মানুষ এখনো বিশুদ্ধ পানির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। দেশ যেখানে এতদূর এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমার এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখনো কাঁচা। সবাই বলে সব সংসদ সদস্যরাই অতীতে বলেছে যে তারা নির্বাচিত হলে ভেড়িবাঁধ করে দিবে, রাস্তা সবকিছু তারা আর কি পাকা করে দিবে। কিন্তু তারা কেউ কথা রাখেনি। আমার এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখনো দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। আমার এলাকার মানুষ উন্নত চিকি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। আমার এলাকার মানুষ চিকিৎসার অভাবে আমার এলাকার মানুষের প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে। এবং ওই যে আমি বললাম অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখনো কাঁচা। সে কাঁচা রাস্তা হওয়ার ফলে একটু বর্ষা হইলে একদমই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আমার এলাকায় যে দুইটা সরকারি হাসপাতাল আছে এক একটা হাসপাতাল আপনার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট। অথচ এক একটা হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী থাকে ১২০ থেকে ১৫০ জন। ধারণ ক্ষমতা থেকে অনেক বেশি রোগী। এবং হাসপাতালে মিনিমাম উন্নত চিকিৎসা সামগ্রী নাই। প্রতিনিয়ত আমার এলাকার মানুষকে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারাতে হচ্ছে, কষ্ট পেতে হচ্ছে। আমরা এই যে আপনি যেটা বললেন হেভিয়েট ক্যান্ডিডেট, হেভিয়েট ক্যান্ডিডেটদের বিরুদ্ধে আমরা কিভাবে আর কি লড়াই লড়াই করব। দেখুন, আমরা এই শক্তি পেয়েছি, আমরা এই সাহস পেয়েছি আমার এলাকার মানুষদের কাছ থেকে, আমার এলাকার জনগণের কাছ থেকে। আমার এলাকার মানুষ আমাদেরকে কথা দিয়েছে তারা এবার আর ভুল করতে চায় না। তারা এবার আর প্রতারণার শিকার হতে চায় না। তারা একই ভুল বারবার করতে চায় না। এইজন্যই আমরা আশা পাচ্ছি, আমরা ভরসা পাচ্ছি। আমরা এগিয়ে চলছি। মানুষ এবার পরিবর্তন চায়।দেখুন, এ বিষয়ে আমি আসলে কোন মন্তব্য করতে চাই না। আমার এলাকার আমার এলাকার মানুষ এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার এলাকার মানুষ এবার জোটবদ্ধ হয়েছে। তারা এবার আর বহিরাগতদেরকে তারা এবার আর ভাড়টেদেরকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে চায় না। কারণ, অতীতে তারা এ ধরনের বহিরাগতদের, এ ধরনের ভাড়টেদের নির্বাচিত করে তারা তারা প্রতারিত হয়েছে। আমার এলাকার মানুষ বলছে অতীতে তারা এ ধরনের একটা ভাড়টেকে তারা নির্বাচিত করেছিল। সে নিজেই ঠিকাদার হয়েছে। সে নিজেই লুটপাট করেছে। আমার এলাকার মানুষ এই ভুল আর করতে চায় না। আর ঠিক সেই জায়গা থেকেই আমার এলাকার মানুষ আমাকে বলছে তারা আমাকে তারা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে তারা আমাকে চাচ্ছে। তারা আমাকে আমি কিন্তু প্রথমে আসলে ইলেকশন করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি নাই। আমার এলাকার মানুষ আমাকে চাচ্ছে। যেহেতু আমার পূর্ববর্তী অন্তত ১০ পুরুষ ওই মাটিতেই শুয়ে আছে। আমি যদি আমি যদি জিতেও যাই আমার এই মানুষের মাঝেই আমার থাকতে হবে, আমার এই এলাকায়ই আমাকে থাকতে হবে। আর আমি যদি হেরেও যাই আমাকে কিন্তু এই মাটিতেই শায়িত হতে হবে। সুতরাং এই মাটির প্রতি আমার দায় এবং দরদ রয়েছে, এই মাটির প্রতি আমার ভালোবাসা রয়েছে। এইজন্যই আমার এলাকার মানুষ এবার আমাকে চাচ্ছে। আমরা দেখেছি আমাদের সাবেক এমপি, তিনি সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছেন এবং তিনি তার নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ কাজ করেছেন। অথচ শতভাগ টাকা তিনি নিজের পকেটে ভরেছেন। আমার এলাকার মানুষ সেগুলা দেখেছে। এগুলা দেখেই আমার এলাকার মানুষ এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা এবার আর ভুল করতে চায় না। কারণ, আপনি যে এমপির কথা বললেন আমি নাম নিচ্ছি না। কিন্তু তিনি কিন্তু আমার আমার মাটির সন্তান না। আমার মাটির প্রতি তার কোন দায় এবং দরদ নাই। এগুলা দেখেই মানুষ এবার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মানুষ এবার পরিবর্তন চাচ্ছে। মানুষ এবার তাদের সন্তানকে, তাদের ঘরের সন্তানকে তারা এবার সংসদে পাঠাতে চা়য়।
জি, আমরা পিয়ার পদ্ধতির আমরা যেটা বলছি, আমাদের দল যেটা বলছে আমরা উচ্চকক্ষের পিয়ার পদ্ধতি আমরা চাই।
দেখুন, আপনি যদি বলেন ফেব্রুয়ারিতে সঠিক নির্বাচন হবে কিনা? এখনো পর্যন্ত আমাদের যেটা মনে হচ্ছে যে নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। এবং যেটা আমাদের দল থেকে কিন্তু ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছে। দেখেন আগে আমরা দেখতাম ১৪ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি, ১৮ সালে আমরা দেখেছি, ২৪ এ আমরা দেখেছি যে আওয়ামী লীগের যারা প্রার্থী ছিল তারা নৌকা প্রতীক পেলেই তারা নিজেদেরকে এমপি মনে করতো। এখন কি এর থেকে খুব একটা ভালো অবস্থা? আমি দর্শকদের কাছে প্রশ্ন করতে চাই এখন এর থেকে খুব একটা ভালো অবস্থা কিনা। বিশেষ একটা দল তাদের প্রতি তাদের প্রার্থী নির্বাচন করলো এবং সেই প্রতীকগুলো পেয়েই যারা সেই প্রতীক পেলো তারা কিন্তু এলাকায় যেয়ে তাদের আধিপত্য দেখানো শুরু করলো। তারা সেই ১৪, ১৮ এবং ২৪ এর মতন করে তারা এলাকায় তাদের আধিপত্য বিস্তার, শোডাউন বা এই ধরনের অপ-রাজনীতি, অপ-সংস্কৃতি তারা কিন্তু শুরু করলো। তো আমরা যেটা বলতে চাই এই জন্য জুলাই আসে নাই। এই জন্য বিপ্লব হয় নাই। এই জন্য ২ হাজার মানুষ জীবন দেয় নাই। এই জন্য অর্ধলক্ষাধিক মানুষ আজ পঙ্গুত্ব বরণ করে আজ তারা এই বাংলাদেশ দেখার জন্য বেঁচে নাই। তো আমরা যেটা মনে করছি এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। আমরা অবশ্যই এই লেবেং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। এবং পাশাপাশি আমরা মনে করি আমাদের দল মনে করে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হওয়া উচিত এবং একটি একটি মহল, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে এবং তারা নানানভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সাধারণ জনগণ সেই অপচেষ্টার রুখে দিতে চায় এবং আমরা নিঃসন্দেহে সাধারণ জনগণের পাশে থাকবো।
দেখুন, আমরা চাই নির্বাচন হোক। আমরা এখনই খারাপটা ভাবতে চাই না। আমরা চাই যার উপরে আমরা আস্থা রেখেছিলাম, আমরা যার উপর আস্থা রেখেছিলাম, আমরা সেই প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে আমরা বারবার বলেছি আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন হোক। এবং তিনি যেন সেই ব্যবস্থা করেন আমরা এখনো তাকে সেই অনুরোধ করতে চাই।দেখুন, এইজন্য আমরা শুরু থেকেই আমরা আর কি বলে আসছি। আপনি যদি বিশেষ করে খুলনা শহরের কথা বলেন, খুলনা শহরের গত ১৫ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত বেশি অধঃপতন নিকট অতীতে কখনো ছিল না। তো এইজন্য খুলনার প্রশাসন দায়ী। এইজন্য সরকার দায়ী। এইজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়ী। এইজন্য আমাদের মতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দায়ী। আমরা সবাই দায়ী।
এটা তাদের ব্যর্থতা। আমরা তাদেরকে বারবার আমরা তাদেরকে সতর্ক করছি, আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি, আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছি। তারপরও তারা যদি সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এবং এটা তাদেরই ব্যর্থতা। সবকিছু ইতিহাসে লেখা থাকবে। জাতি সবকিছু বিচার করবে। একদিন তাদেরকেও ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।দেখুন, আমি বিজয়ী হলে আমি এলাকাবাসীর জন্য আসলে অন্যান্য প্রার্থীর মতন আমি ঐ একগাদা মানে একগাদা কথাকে একসাথে দিয়ে আমি এই একগাদা কথার ফুলঝুরি আমি ঝরাতে চাই না। আমি যেটা বলতে চাই, আমার এলাকার মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে হবে। আমার এলাকার মানুষ এখনো দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। সেদিন আমাকে একজন প্রার্থী সেদিন সে একটা নির্বাচনীকে প্রচারণায় সে বলছিলেন সে বিজয়ী হলে সে এলাকায় লবণাক্ত পানি নিরসনের জন্য কাজ কাজ করবেন। তো আমি জানি না লবণাক্ত পানি কিভাবে আর কি নিরসন করে। আমার এলাকার বাস্তবতা মেনে নিয়ে, আমার এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান মেনে নিয়ে এবং
আমার এলাকার সুন্দরবন, বঙ্গোপসাগর সহ যে সম্ভাবনাগুলো আছে। সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমি আমার এলাকাকে একটা অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করতে চাই। এবং আপনি জানেন আমার এলাকায় প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি উৎপাদন হয়। বাংলাদেশের চিংড়ি উৎপাদনের সেরা। এই চিংড়ির কিন্তু বিদেশে একটা ব্যাপক চাহিদা চাহিদা রয়েছে। তো আমরা যদি আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে চিংড়ি উৎপাদন করতে পারি আমার এলাকার মানুষ কিন্তু ডলার ইনকাম করতে পারে। আমার এলাকার মানুষ কিন্তু প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। সেই সুযোগগুলো আমাদেরকে তৈরি করে দিতে হবে। সেই সম্ভাবনার কথা আমাদেরকে বলতে হবে। আপনি জানেন আমার এলাকায় পৃথিবীর বৃহত্তম আর কি পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন যেটা সেটা আমার এলাকায় অবস্থিত। এটা কিন্তু দেখার জন্য বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আমার এলাকায় আসবে যদি আমরা সেই সুযোগটা তৈরি করে দিতে পারি। যদি আমরা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে পারি। যদি আমরা সেই সম্ভাবনার কথাগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে পারি। আপনি জানেন আমার এলাকায় আমার এলাকা থেকে শুধু চিংড়ি না প্রতি বছর বহু অনেক ধরম মানে আপনার বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যে কি মৎস্য সেটা কিন্তু আমার এলাকা থেকেই উৎপাদন হয়। তো মৎস্য চাষে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। সেগুলা আমাদেরকে গবেষণা সেন্টার সেন্টার করতে হবে। আমার এলাকায় শত শত ফ্যাক্টরি গড়ে উঠবে। আমার আমার এলাকার মানুষের জীবন বদলে যাবে। আমরা সেই সম্ভাবনার কথাগুলো বলছি। পাশাপাশি আমার এখানে গভীর সমুদ্র রয়েছে, গভীর নদী রয়েছে। সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা এখানে একটা স্যাটেলাইট বন্দর তৈরি তৈরি করতে পারি। যেন ভারত, মিয়ানমার বা আশেপাশের আরও কয়েকটা দেশের সাথে আমরা আন্তর্জাতিক যেটা নৌ বাণিজ্য সেটা আমরা চালু করতে পারি। তো এই এবং তার জন্য আপনার আমার এলাকায় একটা আপনার ডকইয়ার্ড নির্মাণ করার কি প্রয়োজন। সেই সেগুলো আমরা করতে পারি। সেই সম্ভাবনার কথাগুলো আমরা মানুষকে বলতে পারি। আমি এইগুলা নিয়েই কাজ করছি এবং আমার অঞ্চলকে কিভাবে একটা অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা যায়, কিভাবে আমার অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়া যায় সেই সম্ভাবনারগুলোর কথা আমরা বলছি। সেগুলা নিয়েই আমরা কাজ করছি। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে অবশ্যই আমার এলাকার জনগণকে সাথে নিয়ে আমার আমার প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য যে সকল প্রার্থী আছেন তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে এগুলা আমি অবশ্যই বাস্তবায়ন করব। আর আমি যদি নির্বাচিত নাও হই এগুলা বাস্তবায়ন করার জন্য আমার লড়াই আমি জারি রাখব। যেহেতু এই মাটিতেই আমাকে দিন শেষে শায়িত হতে হবে। জি, এ বিষয়ে আমার চিন্তাভাবনা আছে। দেখেন আমার আমার আমার বাড়ি আপনার চাঁদখালি। চাঁদখালি হাই স্কুলের পেছনে একটা আর কি পুকুর আছে। তো সেখানে ২-৩ কিলোমিটার দূর থেকে মহিলারা কিন্তু পানি নিতে আসে ওই পুকুরের পানি খাওয়ার জন্য। তো পুকুরের পানিতে কিন্তু প্রচুর আর্সেনিক থাকে এবং এটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তো আমি আপনাকে আগেই বললাম যে যেখানে দেশ এতদূর এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ যেখানে বহুদূর এগিয়ে গেছে সেখানে আমার এলাকার মানুষ এখনো বিশুদ্ধ পানির জন্য তাদের তাদের এই লড়াই তাদের এই সংগ্রামকে জারি রেখেছে। আমার এলাকার মানুষ অনেক পরিশ্রমী। কিন্তু তাদের এই শ্রম তারা কোথায় কাজে লাগাবে? এই সম্ভাবনা, এই সুযোগ কেউ তাদেরকে তৈরি করে দিতে পারে নাই। তো পানির আপনি যে বিষয়গুলো আর কি বললেন এটা নিয়ে অবশ্যই আমাদের চিন্তাভাবনা আছে। এটা নিয়ে আরও যারা আর কি বিশেষজ্ঞ তাদের সাথে আরও আমরা কথা বলতেছি এবং সেভাবেই আমরা আমাদের আর কি নির্বাচনী ইশতেহার আমরা সেভাবেই আমরা তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। এবং যেটা করা সম্ভব। আমরা আমার এলাকার মানুষকে এমন কোন প্রতিশ্রুতি আমি দিতে চাই না যেটা আমি বাস্তবায়ন করতে পারব না। কারণ দিনশেষে আমার এলাকায়ই আমাকে ফিরে যেতে হবে। অবশ্যই যেটা বাস্তবায়ন সম্ভব বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে আমরা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button