দাবী আদায়ে পুর্ব-ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা থেকে সরে দাঁড়ালেন আন্দোলনরত প্রাইমারী শিক্ষকরা,

# চিতলমারীর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন #
বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বার্ষিক পরিক্ষা শুরুর একদিন আগে ঘোষনা দিয়ে পরিক্ষা নেয়া থেকে সরে দাড়িয়েছেন ৩ দফা দাবী নিয়ে আন্দোলনরত সরকারী প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা। এতে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১১১ টি প্রাইমারী স্কুলের প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্বিঘœ হয়ে পড়েছে। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাইমারী শিক্ষা কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষকরা বার্ষিক পরিক্ষা গ্রহন করছেন। তবে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা চরম উদ্বিঘেœ রয়েছেন। এর আগে সোমবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত পরিক্ষা বর্জন থাকবে। এ দিকে,শিক্ষার্থী অভিভাবক আসমা বেগম, কাবেরী বিশ্বাস, বশির আহম্মেদ ও সোলাইমান খান বলেন, ‘সহকারি শিক্ষকদের এ সিদ্ধান্ত আমাদের উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলেছে। তাঁরা পরীক্ষার আগে বা পরে অন্য কোন সিদ্ধান্তে যেতে পারতেন। বাংলাদেশ সহকারি শিক্ষক সমিতি চিতলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি কাজী কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খোকন মন্ডল বলেন, ঢাকার ‘শাহাবাগের কর্মসূচিতে পুলিশের বর্বরোচিত নির্মম জল কামান ও সাউন্ড গ্রেনেডের হামলায় শতাধিক শিক্ষক আহত এবং ফাতেমা নামের একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ৩ দফা আমাদের প্রাণের দাবী। তাই দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক) পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর স থেকে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১১১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৫২৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। এদের মধ্যে সহকারি শিক্ষক ৪৮৫ জন। তারমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৭০ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য। উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা। চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস আন্দোলনরত শিক্ষকদের লিখিত পত্রটি গ্রহণ করে বলেন। পুর্ব-ঘোষনা অনুযায়ী ২ ডিসেম্বর থেকে এ উপজেলার ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার ঠিক আগের দিনে সহকারি শিক্ষকদের এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের পাশাপাশি আমরাও চরম ভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমি শিক্ষকদের পরীক্ষা বর্জনের পত্রটি পেয়ে তাদের পরীক্ষার হলে যেতে বলেছি। তারা যদি পরীক্ষা না নেন, তাহলে প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা গ্রহণ করবেন।’ এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা নিবেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অবশ্যই হবে।



