বিনোদন

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ একসঙ্গে বাঁধন, শিমু ও সুনেরাহ

প্রবাহ বিনোদন: দুই দশকের অপেক্ষা শেষে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন অবশেষে তার বহুল আলোচিত সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর অভিনয়শিল্পীদের নাম প্রকাশ করেছেন। ভ্যারাইটিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু এবং সুনেরাহ বিনতে কামাল। তাঁদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন জাইনিন করিম চৌধুরী, যিনি এবারই প্রথম বড় পর্দায় অভিনয় করছেন। গল্পে দেখা যাবে, রূপকথার মতো বিয়ের স্বপ্ন দেখা এক তরুণী এক জটিল রোগে ভুগতে থাকে। ঘরোয়া উপায়েও উপশম না পেয়ে তার মানসিক চাপে যোগ হয় বিভ্রম। একদিন বিউটি পারলারে সে কল্পনায় দেখতে শুরু করে লম্বা চুলের রহস্যময় এক নারীকে। সামাজিক বাস্তবতার ভেতর নারীর মানসিক লড়াই এবং হরর উপাদান মিলিয়ে গল্পটি এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। ইতোমধ্যে গোপনেই শেষ হয়েছে শুটিং। বাঁধন, শিমু এবং সুনেরাহ একসঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করেছেন এই ছবিতে। তিন তারকাই শুটিং প্রসঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালেও পরিচালক জানান, তিনি কাউকে আগেভাগে জানাতে চাননি। মাঝামাঝি সময়ে তাঁরা শুটিং করেন এবং প্রত্যেকে চরিত্র নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। রুবাইয়াত বলেন, তিনজনই খুব মেধাবী এবং কেউই নিজের চরিত্রের দৈর্ঘ্য নিয়ে মাথা ঘামাননি। বরং গল্পটিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধান চরিত্রে জাইনিন করিমকে নেওয়া ছিল নির্মাতার কাছে দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করলেও অভিনয়ে তার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবু তিনি চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন বলে দাবি রুবাইয়াতের। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর চিত্রগ্রহণ করেছেন পর্তুগিজ নির্মাতা লিওনর টেলস। অন্যান্য বিভাগেও কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক কলাকুশলীরা। পাঁচটি দেশের অনুদানে নির্মিত এই সিনেমা প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, পর্তুগাল এবং বাংলাদেশের প্রযোজকেরা। নির্মাণ পরবর্তী কাজের বড় অংশ হচ্ছে ফ্রান্স এবং লিসবনে, যেখানে বিশেষভাবে তৈরি করা হবে সিনেমার ভিডিও ইফেক্টস। আগামী ১৩ ডিসেম্বর ফ্রান্সে শুরু হতে যাওয়া লেস আর্কস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ওয়ার্ক-ইন-প্রোগ্রেস বিভাগে এশিয়া থেকে একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে জায়গা পেয়েছে সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক এ প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়াকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন রুবাইয়াত হোসেন। তার ভাষায়, এখানে বিশে^র গুরুত্বপূর্ণ বিপণন এজেন্ট এবং প্রযোজকদের বড় সমাবেশ হয়, যা সিনেমাটিকে আরও দূরে নিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার গল্পও জানিয়েছেন নির্মাতা। ২০০৬ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য হিসেবে নির্মাণ শুরু করলেও নানা কারণে এগোতে পারেননি তিনি। তারপর দুই দশক ধরে গল্পটি পুনর্লিখন এবং প্রস্তুতির মধ্যে রেখেছেন। রুবাইয়াত বলেন, জীবনের একেবারে অর্ধেক সময় ধরে এই গল্প তার সঙ্গে থেকেছে এবং অবশেষে চমৎকার একটি দল নিয়ে সিনেমাটি বানাতে পেরে তিনি এটাকে এক ধরনের মিরাকল মনে করছেন। এখন চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ প্রস্তুত হতে পারে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’, এরপর অংশ নেবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে। বাংলাদেশে মুক্তি পেতে আরো বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button