শুক্রবার রাত থেকে ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন

# যানজটের যাতাকলে পিষ্ট থেকে যশোরের সব পেশার মানুষ মুক্তি চাই #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যানজট থেকে যশোরের সব পেশার মানুষ,অফিস,স্কুল,কলেজগামীরাও মুক্তি চায়। প্রতিদিন শহরের মধ্যে কয়েকটি সড়কে সকাল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত যানজটের কবলে পড়ে নাভিশ^াস হয়ে উঠে। গত মাসের অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ দিনে নবাগত পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম যশোরে যোগদানের একদিন পর সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভায় যশোরের সার্বিক সমস্যা অনুধাবন করেন। তিনি তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন এক মাসের মধ্যে যশোরের সমস্যার চিত্র পাল্টে দিবেন। এরজন্য সাংবাদিকদের সহযোগীতা চান। সাংবাদিকরা নবাগত পুলিশ সুপারকে সহযোগীতার আশ^াস দেন। এরপর পুলিশ সুপার বিভিন্ন সময় শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরাঘুরি করে নিশ্চিত হন কেন শহর যানজটে পরিপূর্ন। বিভিন্ন পেশার মানুষের কেন ভোগান্তি। তিনি এই ভোগান্তি লাঘবে কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি যশোর ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের কার্যালয় পরির্দশন করে সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর,সার্জেন্ট,টিএসআই,এটিএসআই ও কনস্টেবলদের দায়িত্ব সমন্ধে অবগত হন। তিনি কর্তব্যরত সার্জেন্টদের নির্দেশ দেন রাতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ বেপরোয়া গতিতে চলাচলরত ও নাম্বার বিহীন এবং কাগজপত্র বিহীন,হেলমেট ছাড়ায় চলাচালরত মোটর সাইকেল জব্দ করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। শুক্রবার রাত থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সার্জেন্টরা চেকপোষ্ট বসিয়ে তাদের কর্মকান্ড শুরু করেন। গত রাত থেকে যশোর ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যক্রমে অবৈধ যানবাহনের মালিকেরা নিজেদের গুটিয়ে ফেলেছেন। সম্পূর্ন কাগজপত্র ও নাম্বার বিহীন যানবাহন যশোর শহরে প্রবেশ কমে গেছে। যার কারণে শনিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে দেখাগেছে যানজট বিগত নভেম্বর মাসের মতো নেই। যশোর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কার্যালয় থেকে জানাগেছে,বর্তমানে এখানে ৫জন টিআই,৯ জন সার্জেন্ট,৬জন টিএসআই,১৫ জন এটিএসআই ও ৫৪জন পুলিশ কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে হঠাৎ করে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম শিথিল হওয়ার পর থেকে গোটা শহর যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সকাল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত শহরের দড়াটানা থেকে শহরের জেলরোড,গরীবশাহ সড়ক,মুজিব সড়ক,গাড়ীখানা সড়ক,কোতয়ালি থানার সামনে দিয়ে আরএনরোডসহ বেশ কয়েকটি সড়কে সমানতালে যানজট লাগার ফলে অফিস,স্কুল,কলেজগামী বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ ও প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ যানজটের কবলে পড়ে ঘন্টারপর ঘন্টা সময় পার করেন। গোটা শহর যেন এক যানজটের শহরে পরিনত হয়ে পড়েন সে সময়। এর কারণ হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গোটা শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে,অবৈধভাবে প্রস্তুত করা ইজিবাইক,অটো রিকশা,অটো ভ্যান, নাম্বার বিহীন মোটর সাইকেল,নছিমন,করিমন,ভটভটি,সিএনজিসহ বিভিন্ন ছোটবড় যানবাহন। দেখতে মনে হয় নাম্বার বিহীন মোটর সাইকেল ও অবৈধ,ইজিবাইক, অটো রিকশা গোটা শহরকে গিলে ফেলেছে। শহরের সড়কে ধারণ ক্ষমতার চারগুন ছোটখাটো যানবাহনের মহড়া এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাই নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে প্রথম দিন আলোচনায় সাংবাদিকরা যাটজটের শহর যশোর শহর উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। উক্ত বক্তব্যের পর পুলিশ সুপার নিজেই বিষয়টি অনুধাবন করেন। তিনি যশোরকে শান্তি শহর পরিণত করতে কাজ শুরু করেছেন ইতিমধ্যে।



