বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস পালন

প্রবাহ ডেস্ক
বিভিন্ন স্থানে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ এবং ‘বেগম রোকেয়া দিবস’ পালিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানোর বিস্তারিত সংবাদ।
কয়রা
কয়রা উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোঃ আহাদ আলী, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোঃ মাসুম বিল্লাহ, কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক তরুন কান্তি মন্ডল, অদম্য নারী ডাঃ মহসিনা রহমান, মানষী মন্ডল, নারী নেত্রী মুর্শিদা খাতুন প্রমুখ। আলোচনা শেষে সমাজে বিশেষ অবদান রাখায় ৫ জন অদম্য নারীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
ডুমুরিয়া
ডুমুরিয়ায় নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে বেগম রোকেয়া ও আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকালে একটি র্যালী বের হয়। এরপর উপজেলার হলরুমে আলোচনা সভা ও নির্বাচিত অদম্য নারীদের সংবর্ধনা প্রদান দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নব-নিযুক্ত উপজেলা নির্বাহি অফিসার সবিতা সরকার। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসি রানীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনোজ রায়, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, জামাতের মাওঃ হাবিবুর রহমান, মুফতি আব্দুল কাউয়ুম জমাদ্দার, খাদ্য কর্মকর্তা সুলতানা খানম, তথ্য কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম মানিক, অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সৌমেন মন্ডল, এ্যাড আলমগীর কবির প্রমুখ। সভা শেষে ৫টি ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদান রাখায় ৫জন নারীকে শ্রেষ্ট অদম্য ক্রেষ্ট ও সংবর্ধনা দেয়া হয়। তার মধ্যে অর্থনৈতিক সাফল্যতায় রংপুর ইউনিয়নের স্মৃতিকনা মালাকার, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সফলতায় উলা গ্রামের সুর্বনা মূখার্জী, সফল জননী মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের পারভীন আক্তার, নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নুতন উদ্যমে জীবন শুরু চিংড়া গ্রামের রুমা আক্তার, সমাজ উন্নয়নে অসামন্য আবদান রেখেছেন রাজাপুর গ্রামের সাবরিন ইয়াসমিন ।
অভয়নগর
যশোরের অভয়নগরে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ এবং ‘বেগম রোকেয়া দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীদের সবংর্ধনা, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সবংর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাজ কুমার পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু। এ সময় বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীমুর রাজীব, নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ রবিউল হাসান, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফ হোসেন প্রিন্স। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী অদম্য নারী শিপামনি, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে অবদান রাখা অদম্য নারী বিলকিছ বেগম, সফল জননী হিসেবে অদম্য নারী নিশাত সুলতানা, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা অদম্য নারী নন্দিতা মল্লিক এবং সমাজউন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা অদম্য নারী রেনু বেগমও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সংবাদকর্মী এস জেড মাসুদ তাজ। এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়।
মোংলা
দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে মোংলা উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অদম্য নারীদের সম্মান প্রদান উপলক্ষে পরিষদ চত্বর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরৎ জাহান। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় অফিসার জোবায়ের হোসেন, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন প্রমুখ। বক্তারা বলেন,নারী-পুরুষ সমতা ও সহিংসতা মুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে পরিবার এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বিত প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫ জন নারী জয়িতাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি শারমিন আক্তার সুমী। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী: লাবনী হালদার, শিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্য অর্জনকারী নারী: অনন্যা ইয়াসমিন, সফল জননী নারী: মোসা: রেবেকা বেগম, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী: মুন্নি বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন নারী: বৃষ্টি বৈরাগী।
তালা
দিবসটি উপলক্ষে তালা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যলয়ের আয়োজনে সকালে র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক হাসান। মহিলা বিষয়ক অফিসের দেবকী রানীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সেখ শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন জোয়ার্দ্দার, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অচিন্ত্য সাহা, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তালা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, নারী নেত্রী গুলশান আরা, নারী উন্নয়ন সংস্থার ফরিদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অফিসের আলেয়া খাতুন প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে অদম্য ৫ নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী রাবেয়া বিবি, শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সফল নারী রুপা রানী পাল, সফল জননী সুচিত্রা দাশ, নির্যাতিতা থেকে উদ্যোমী; কর্মঠ ও স্বাবলম্বী নারী ফরিদা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় শিরিনা সুলতানাকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।



