সিলেটে আসামি ধরার সময় সিআইডির কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সিলেট নগরীর সাগরদীঘিরপাড় এলাকায় একটি সাইবার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটক করতে গিয়ে ছুরিকাহত হয়েছেন সিআইডির এসআই খোরশেদ আলম। অস্ত্রোপচার শেষে ওই কর্মকর্তা বর্তমানে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রধান সন্দেহভাজন রহিম উদ্দিন রাজুকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছে পাওয়া ভিজিটিং কার্ডে তার পরিচয় লেখা রয়েছে- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য। তবে ছাত্রলীগের কারও কাছ থেকে বিষয়টি যাচাই করা যায়নি। পুলিশ বলছে, সাইবার সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট একটি মামলার ওয়ারেন্ট অনুসরণ করে সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনার সময় গত সোমবার রাতে ওই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে আটক করতে এগিয়ে গেলে তিনি ধারালো একটি ছুরি দিয়ে সিআইডি কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সিআইডি একাধিক দল অভিযান শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এয়ারপোর্ট থানার মজুমদারি এলাকার একটি মেসে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার বাড়ি কানাইঘাট উপজেলায়। এদিকে, গত সোমবার বিকালে এক ব্রিফিংয়ে সিআইডির ডিআইজি ড. আল মামুনুর আনসারী জানান, আটক করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে কোতোয়ালি থানায় একাধিক এবং শাহপরাণ থানায় চুরি ও মারপিট সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আগের এক মামলার বাদীর ছবি সম্পাদনা করে অসদুপায় অবলম্বন এবং হয়রানির অভিযোগেও তিনি অভিযুক্ত বলে সিআইডি জানায়। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাজু মোটরসাইকেলে ওঠার সময় সিআইডির সদস্যরা তাকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি পকেট থেকে ছুরি বের করে এসআই খোরশেদ আলমকে আঘাত করেন। এরপর তিনি দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে পুনরায় মোটরসাইকেলে উঠে এলাকা ত্যাগ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।



