১৮ মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর দিনযাপন খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ১৪ কর্মচারীর!

স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: গাজী রফিকুল ইসলাম ও হাসপাতালের হিসাব রক্ষক কাম বড়বাবু তরিকুল ইসলাম ক্ষমতা অপব্যবহার ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ১৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারি বেতন না পেয়ে অনাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জন্য আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে সেবা কর্মীর সেবা ক্রয়ের মেয়াদ বৃদ্ধির ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের শুরুতে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ১৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর পদের অনুমোদন দেয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরেও দীর্ঘ ৮ মাস ফাইল না ছেড়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: গাজী রফিকুল ইসলাম ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বিল আটকে দেন এবং অর্থবছরের চলে যাওয়ার পর ফাইল ঢাকায় পাঠান। তার এই স্বেচ্ছাচারিতার ফলে ১৪ জন কর্মচারী গত ১৮ মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের এক কর্মচারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস বেতন পাচ্ছি না। এ নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক স্যারের কাছে বেতনের কথা বললে খারাপ ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, তোমার চাকরি নেই তুমি চলে যাও। আমরা জানতে পারি কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই নতুন করে ৭ জনকে হাসপাতালে কাজ করাচ্ছেন এবং পুরনো লোকজনকে হুমকি দিয়ে চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করার পর বাড়িতে চলে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন। জানা যায়, হাসপাতালের হিসাব রক্ষক কাম বড়বাবু তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, পট পরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে তিনি এখন পূর্বের চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে ১৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর পদের অনুমোদন এলেও তরিকুল ইসলাম মোটা অংকের কমিশন না পাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বিল আটকে দেন এবং অর্থবছরের শেষ হওয়ার পর ফাইল ঢাকায় পাঠান। তার এই স্বেচ্ছাচারিতার ফলে ১৪ জন নিরীহ কর্মচারী গত ১৮ মাস বেতন না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। হিসাব রক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজে কোন অবহেলা নেই। আমি কোন অনিয়ম করিনি। তবে ফোনে বিস্তরিত বলা সম্ভব না বলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলার অনুরোধ করেন। হাসপাতালের সুপার ডা. গাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে সিভিল সার্জন অফিসের ৩২ জন এবং আমাদের ১৪ জন কর্মচারী নিযুক্ত আছেন। এই ১৪ জন নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। তাদের অনুমোদন ও বেতনের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব ঠিকাদারের। কিন্ত ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে তাদের বেতন আটকে গেছে। পরে আমার অফিসের উদ্যোগে তাদের কাগজপত্র ঢাকায় পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সুরাহা হয়ে যাবে।



