স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ৩৪ বছরের এক টিকটকারের প্রতারণায় এক কিশোরের জীবন ধ্বংসের পথে

# সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ
খুলনার একাধিক স্বামী পরিত্যক্তা টিকটকার ৩৪ বছর বয়সী সুমাইয়া জান্নাত পিয়ার প্রতারণার কবলে পড়ে আমার ১৭ বছরের কিশোর তরিকুজ্জামান বিজয়ের জীবন বিপন্নের পথে। এই মহিলার কাজ হচ্ছে- উঠতি বয়সের ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা আদায় করা। টাকা না দিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নগরীর খালিপুর নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা আশাফুজ্জামান চন্দন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে আমার ছেলে তরিকুজ্জামান বিজয়ের এস এসসি পরীক্ষার প্রায় এক মাস আগে পরিচয় হয় সুমাইয়া জান্নাত পিয়া নামের এক মক্ষীরাণীর সাথে। নগরীর ৭ নং ঘাট এলাকায় ওই মহিলা মোবাইল ফোনে ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে আমার ছেলে তুলে দেয়। এরপর ওই মহিলা নিজেকে ভারতীয় বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করে এখানে কাউকে সে চেনে না। তখন বিজয়কে তার মোটরসাইকেলে চড়ে খুলনা শহর ঘুড়ে দেখানোর অনুরোধের মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। নিজেকে ভারতীয় নাগরীক বললেও ওই মহিলার বাড়ী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের মাদ্রাসা গলি রোডে। তার মা রিতা পারভীন ওই হাসপাতালের বাবুর্চি পদে চাকরী করেন। আমার ছেলে এতোকিছু জানতো না। এভাবে দিনের পর দিন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমার ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এক পর্যায়ে আমার ছেলে বিজয় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। ওই মহিলা নিজেও একজন মাদকসেবী। আমার ছেলেকে সুকৌশলে মাদকাসক্ত করা হয়। ফলে প্রায়সময়ই আমার ছেলে বাড়িতে থাকতো না। আশাফুজ্জামান চন্দন আরো বলেন, তখন আমার ছেলের খোঁজ না পেয়ে ২০২৪ সালের ৩১ মে স্থানীয় থানায় জিডি (নং১৭৭৩) করি। এঘটনার ৬ দিন পর অর্থাৎ ৬ জুন যশোর জেলার মনিরামপুর থেকে ওই মহিলাসহ আমার ছেলেকে উদ্ধার করা হয়। তখন আমার ছেলে স্বাভাবিক না থাকায় দ্রুত খুলনায় এনে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করি। তার চিকিৎসা চলাকালে ওই মহিলা তার সাথে ফের নিয়মিত যোগাযোগ করে। এটি জানতে পেরে আমি বিজয়কে বাড়িতে নিয়ে আসি। এর কিছুদিন পর তাকে তাবলীগে পাঠাই। কিন্তু ওই বছরের ২৬ জুলাই নিরালা মারকাজ মসজিদ থেকে বিজয় নিখোঁজ হয়। ওই সময় দেশের পরিস্থিতি খারাপ থাকায় সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুর থানায় গিয়ে পুলিশের কোন সহযোগীতা পাইনি। তারা লিখিত অভিযোগও গ্রহণ করেনি। ফলে আমার ছেলের সন্ধান চেয়ে ফেসবুকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করি। কয়েকমাস পর ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর জানতে পারি বিজয় কুষ্টিয়ার কুমারখালী পান্টি বাজারে পাগলের মতো ঘুরছে। আমরা যখন বিজয়কে উদ্ধার করি তখন জানতে পারি ওই মহিলা বিজয়কে দর্শনায় নিয়ে গিয়ে দিয়ে মাদক পাচার করাতো। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়- পরবর্তীতে ওই মহিলা ফেসবুকে আমার ছেলের নামে একটি ফেইক আইডি খোলে। ‘এমটি বিজয়’ নামের ওই ফেইক আইডি থেকে আমাদেরকে আজেবাজে গালিগালাজসহ দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলার ভয় দেখায়। একপর্যায়ে ওই বছরের ১০ অক্টোবর সোনাডাঙ্গা থানায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় উল্লেখ করা হয় যে- ওইদিন বেলা সাড়ে ১২টায় আমার ছেলে নাকি ওই মহিলাকে ধর্ষণ করেছে। এজাহারে বলা হয়েছে যে- আমার ছেলে বিজয় ১০০ টাকার দুটি স্ট্যাম্পে পিয়াকে বিয়ে করে। তাহলে বিয়েই যদি করে থাকে তাহলে ধর্ষণ মামলা কিভাবে হয়? বিয়ে হলে কি ধর্ষণ মামলা হয় কিভাবে? আর এস আই খালিদ কিভাবে এই মিথ্যা মামলাটি গ্রহণ করলেন? এই মিথ্যা মামলায় ওই বছরের ৪ নভেম্বর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এস আই খালিদ আমাদেরকে থানায় ডেকে পাঠায়। তখন বিজয়কে থানা হাজতে ঢুকিয়ে পরেরদিন ৫ নভেম্বর সুমাইয়া জান্নাত পিয়ার দায়ের করা মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে চালান দেয়। পরবর্তীতে রিমান্ডে এনে আমার ছেলেকে মারধোর করার হুমকি দিয়ে আমার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়। ওই মামলায় সাড়ে তিন মাস কারাবাস থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর ওই মহিলা চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করে। মিথ্যা মামলায় ওই মহিলাকে মারধোরের অভিযোগ আনা হয়। এরপর খুলনা জজ কোর্টের লিগ্যাল এইডে অভিযোগ করা হলে তারা আমাদের দুই পক্ষকেই ডেকে কথা বলে। ওই সময় সুমাইয়া জান্নাত পিয়া আর মামলা করবেনা বলে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে। তিনি বলেন, সবচেয়ে আশ্চার্যের বিষয় হচ্ছে- সুমাইয়া জান্নাত পিয়ার কথিত বাবা হানিফ মিয়া বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা আদালতে আমার ছেলের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করে। মিথ্যা মামলায় বলা হয় যে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে বিজয় তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। ওই মামলায় ৪ লাখ টাকা নেওয়ার সময় দেখানো হয় বেলা দশটা। আবার ধর্ষণ মামলায় দেখোনো হয় ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টা। বলা হচ্ছে- আমার ছেলে চুয়াডাঙ্গা ৪ লাখ টাকা নিয়েছে ১০ অক্টোবর সকাল ১০টায়। আবার আরেকটি মামলায় বলা হয়েছে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনার বাদীর বাড়িতে। এখন আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার আলম ডাঙ্গা থেকে আড়াই ঘন্টায় খুলনায় এসে ধর্ষণ করা সম্ভব? ওই মক্ষীরানী এভাবেই আমার ছেলের জীবন নষ্ট করছে। আমরা জানতে পেরেছি- সম্প্রতি সোনাডাঙ্গা থানায় ওই মহিলা আমার ছেলের নামে আরো একটি অভিযোগ দিয়েছে। দশ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়া পর্যন্ত ওই মহিলা আমাদেরকে হয়রানী করবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button