সম্পাদকীয়

সহিংস রাজনীতির চক্র ভাঙতে হবে

রাউজান ও চট্টগ্রামের কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদল

আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাউজান, সীতাকু- ও হালিশহর-পাহাড়তলী আসনে শেষ মুহূর্তের সমীকরণ শুধু দলীয় কৌশল নয়, স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও জোট-রাজনীতির বাস্তব জটিলতাকেও প্রকাশ করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থী রেখে পরে একজনকে চূড়ান্ত করার কৌশল দলীয় ভারসাম্য রক্ষার প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; তবে এর ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ার ঝুঁকিও অস্বীকার করা যায় না। বিশেষত রাউজান আসনটি অতীত সহিংসতার কারণে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় রয়েছে। গত দেড় বছরে এখানে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, গুলি ও প্রাণঘাতী ঘটনায় এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে-যা নির্বাচনী মাঠকে শঙ্কিত করেছে এবং জননিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই সহিংসতার শিকাররা প্রধানত দলীয় বিভিন্ন উপগোষ্ঠীর অনুসারী-অর্থাৎ সংঘাতটা প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ আধিপত্যের দ্বন্দ্বের ফল। গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। অন্যদিকে সীতাকু- ও হালিশহরে প্রার্থী পরিবর্তনের ফলে নতুন নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রার্থী বদল দলীয় ক্ষোভ প্রশমনে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় সমর্থকগোষ্ঠীর সম্পর্ক পুনর্গঠনের কাজটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সহযোগিতায় রূপ দিতে না পারে, তবে সেটি পুনরায় সংঘাতে গড়াতে পারে-যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে সহিংসতার ধারাবাহিকতা ভাঙতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি ও নিরপেক্ষতায় জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধের বিচার হতে হবে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায়। এছাড়াও দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। প্রার্থী মনোনয়ন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকৌশলে সহনশীলতা ও সংলাপকে অগ্রাধিকার না দিলে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে না। পাশাপাশি নির্বাচন কেবল দলের জন্য ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়-এটি নাগরিকের অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের অধিকার। তাই ভোটের পরিবেশ যেন ভীতি ও আতঙ্কমুক্ত থাকে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সব রাজনৈতিক পক্ষের যৌথ দায়িত্ব। স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন জীবন সহিংসতায় ব্যাহত হলে তার সামাজিক ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হয়-এ বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ; কিন্তু তা কখনোই সহিংসতার বৈধতা দেয় না। রাউজানসহ সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যেন নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথে পরিচালিত হয়-এটাই এখন সর্বাধিক প্রয়োজন। ভোটের মাঠ উত্তপ্ত নয়, নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক-এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button