এডেন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পাননি সৌদি প্রতিনিধি

প্রবাহ ডেস্ক : সৌদি আরবের একজন প্রতিনিধিকে বহনকারী বিমান ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পায়নি। গতকাল শুক্রবার দেশটিতে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত এই অভিযোগ করেছেন। এর ফলে ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এডেন বিমানবন্দরে সৌদি প্রতিনিধিকে বহনকারী বিমান অবতরণে অনুমতি দেননি ইয়েমেনের আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-যুবাইদি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসটিসির সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে রিয়াদ। তবে এই প্রচেষ্টা আইদারুস আল-জুবাইদির একগুঁয়ে অবস্থান ও ধারাবাহিক প্রত্যাখ্যানের মুখে ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এডেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বিমান চলাচল সংক্রান্ত জটিলতা ও রাতভর ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কতদিন চলবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনিশ্চয়তায় ভুগছেন যাত্রীরা। ধারণা করা হচ্ছে, এডেন বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনায় ইয়েমেনে সৌদি আরব ও আমিরাত-সমর্থিত শক্তিগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা মতবিরোধেরই প্রতিফলন, যা দেশটির সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। আমিরাত দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসি-কে সমর্থন করছে। এই গোষ্ঠী গত মাসে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের কিছু অংশ দখল করেছে। এই সরকারের সমর্থক সৌদি আরব এই পদক্ষেপকে হুমকি হিসেবে দেখছে। এসটিসি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। আমিরাতের সেনাদের ইয়েমেন ছাড়তে আলটিমেটাম দিয়েছে। ইয়েমেন সরকার আমিরাতের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল করেছে। এসব ঘটনায় দু’দেশের মধ্যে দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।



