আন্তর্জাতিক

নববর্ষে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় ২০ জন নিহতের ঘটনায় ইউক্রেন দায়ী: রাশিয়া

প্রবাহ ডেস্ক : ইউক্রেনের দক্ষিণ খেরসন অঞ্চলের মস্কো-অধিকৃত এলাকায় একটি হোটেলে ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হওয়ার পিছনে কিয়েভের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। এই হামলায় শান্তি প্রচেষ্টা ‘ব্যাহত’ করার অভিযোগ উঠেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কয়েক সপ্তাহের কূটনীতি প্রচেষ্টা চলছিল এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যখন বলেছিলেন যে তার দেশ শান্তি চুক্তি থেকে ‘১০ শতাংশ’ দূরে রয়েছে, আর এমন এক সংকটময় মুহূর্তে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২০২২ সালে রাশিয়া তাদের সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, পূর্ব ইউক্রেন ধ্বংস হয়েছে ও লাখ লাখ লোক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালাতে বাধ্য হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার খেরসন অঞ্চলের রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদোর বলেন, ‘শত্রুপক্ষের’ তিনটি ড্রোন কৃষ্ণ সাগর উপকূলে খোরলিতে একটি ক্যাফে এবং হোটেলে আঘাত করেছে, তখন সেখানে ‘বেসামরিক লোকেরা নববর্ষ উদ্যাপন করছিল’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ভবন, ধোঁয়াটে ধ্বংসস্তূপের স্তূপ ও পোড়া লাশ দেখা গেছে। তবে, কিয়েভ তাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনীত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তারা এই হামলার তদন্ত শুরু করেছে। হামলায় ২০ জনেরও বেশি লোক নিহত এবং আরও অনেক আহত হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা নিয়ে কাজ চলছে। সালদোর বলেন, হামলার রাতে হোটেলে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এর নিন্দা করার আহ্বান জানিয়েছে এবং এক বিবৃতিতে কিয়েভকে ‘যথাযথ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার এই সতর্কতা বার্তাকে ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার জন্য, যে কোনো প্রচেষ্টাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ করার’ ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছে। এদিকে, জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া রাতে ২ শতাধিক ড্রোন ছোড়ার মাধ্যমে যুদ্ধকে ‘নতুন বছরে’ নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানত জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অপারেটর ইউক্রেনারগো জানিয়েছে, রাশিয়ার এই হামলায় ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহকের’ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সর্বশেষ বোমা হামলায় রেলওয়ে ও বন্দরের অবকাঠামোগুলোরও ক্ষতি হয়েছে। খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়া এমন একটি পার্কে হামলা চালিয়েছে, যেখানে একটি চিড়িয়াখানা রয়েছে এবং এই হামলায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। পার্কের মালিক ওলেক্সান্দ্র ফেল্ডম্যান ইউক্রেনীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই হামলায় সিংহসহ অন্যান্য বেশকিছু প্রাণী আহত হয়েছে এবং ময়না পাখি ও তোতা পাখি নিহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button