আন্তর্জাতিক

বাফার জোন পেরিয়ে সিরিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

প্রবাহ ডেস্ক : বাফার জোন পেরিয়ে আরব দেশ সিরিয়ায় ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের সাইদা আল-গোলান নামের একটি গ্রামে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ১২টি সামরিক যান প্রবেশ করে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই অনুপ্রবেশ সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে গণ্য করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, সিরিয়ার প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় ও মধ্যস্থতায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা চালাচ্ছে। আলোচনার মাঝ পথেই ইসরায়েলি বাহিনী এই সিরিয়ায় অনুপ্রবেশ করলো। আলোচনাগুলো গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে গড়ানোর কথা ছিল। গত সোমবার সানাকে দেওয়া এক বক্তব্যে সিরিয়ার সরকারের একটি সূত্র জানায়, এই আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে সিরিয়া তার আলোচনা অযোগ্য জাতীয় অধিকার পুনরুদ্ধারে অবিচল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘদিনের সিরিয়ার নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ইসরায়েল গোলান মালভূমির বাইরে সিরিয়ার আরও ভূখ- দখল সম্প্রসারিত করেছে এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় একাধিক অভিযান ও বোমাবর্ষণ চালিয়েছে। কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ সিরিয়ায়, বিশেষ করে কুনেইত্রা প্রদেশে অনুপ্রবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার, চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং জমি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করার ঘটনা ঘটেছে, যা জনমনে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সরাসরি সামরিক হুমকি কিছুটা কমে এলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনো বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছে এবং সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে ইসরায়েল সিরিয়াজুড়ে ছয় শতাধিকবার বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন দুটি হামলা হয়েছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসরায়েল ১৯৭৪ সালের ডিসএনগেজমেন্ট চুক্তিকে বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর এই চুক্তি হয়, যেখানে সিরিয়া দখলকৃত গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়। ওই চুক্তির আওতায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসরায়েল এর পর থেকে সেই বাফার জোন লঙ্ঘন করে সিরিয়ার আরও গভীরে অগ্রসর হয়েছে। বাশার আল-আসাদের দেশত্যাগের কথা উল্লেখ করে ইসরায়েল দাবি করছে, ওই চুক্তি আর কার্যকর নেই। এই যুক্তি দেখিয়ে তারা বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও নজরদারি ফ্লাইট চালাচ্ছে; চেকপয়েন্ট বসাচ্ছে; এবং সিরিয়ার নাগরিকদের গ্রেপ্তার বা গুম করছে। এই অবস্থায় সিরিয়া কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সিরিয়ার সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করতে আগ্রহী ইসরায়েল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি নিশ্চিত যে ইসরায়েল সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে। আল-শারা ২০২৪ সালের শেষ দিকে এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় আলোচনা চললেও এখনো কোনো চুক্তি বা দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘোষণা করা হয়নি। সিরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসেও যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। ওই চুক্তির আওতায় কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। গোলান মালভূমি ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টি ওয়াশিংটন স্বীকৃতি দিলেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button